প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২৬ এর লড়াইটাই যে বিজেপির কাছে শেষ লড়াই এবং এই লড়াইয়ে যেভাবেই হোক যে জিততে হবে, তা বিজেপির রাজ্য থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতারা খুব ভালো মতোই অনুধাবন করতে পারছে না। আর এবার যদি তারা নির্বাচনে জয়লাভ করতে না পারেন, তাহলে ভবিষ্যৎ যে তাদের পক্ষে খুব একটা ভালো হবে না, তা বুঝতে পারছেন সকলেই। আর সেই কারণেই প্রত্যেকেই শেষ লড়াইটা খুব জোরদারের সঙ্গে দিতে চাইছেন। রাজ্য বিজেপির সভাপতির দায়িত্বে বসার পর থেকেই শমীক ভট্টাচার্য দাবি করছেন যে, রাজ্যে সরকার বলে কিছু নেই, তৃণমূলের চলে যাওয়া শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা। এমনকি ইডি থেকে শুরু করে সিবিআইয়ের দপ্তরে তালা লাগিয়ে দিলেও, এমনকি নোটিশ পাঠানো বন্ধ করে দিলেও এই রাজ্যে তৃণমূলের বিদায় নিশ্চিত বলেই জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। আর আজ স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিনে সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে প্রশাসনিক কর্তা ব্যক্তিদের নিয়ে গিয়ে ফাইল ছিনিয়ে নিয়ে এসেছেন ইডির তল্লাশি থেকে, সেই বিষয়টি উল্লেখ করে রাজ্যে কোনো সরকার নেই বলেই দাবি করলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি।

সম্প্রতি এই রাজ্যের বুকে ঘটে গিয়েছে এক আশ্চর্যজনক ঘটনা। যেখানে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তল্লাশি চালাচ্ছে, সেখানে হঠাৎ করেই পৌঁছে গিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি তার দলের নথি ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে, এই দাবি করে একটি সবুজ ফাইল হাতে সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায় তাকে। ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছে গিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকেও সেখানে পার্টি করা হয়েছে। এমনকি একাধিক পুলিশ কর্তাকেও সেখানে যুক্ত করা হয়েছে বলে খবর। স্বাভাবিক ভাবেই গোটা পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তার দিকে অবশ্যই সকলের নজর থাকবে। আর তার মাঝেই যেভাবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তদন্তে বাধা দান করার চেষ্টা হয়েছে এবং সেখান থেকে ফাইল নিয়ে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী, তাতে রাজ্যে যে কোনো সরকার রয়েছে, তা কোনোমতেই বোঝা যাচ্ছে না বলেই জানিয়ে দিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। আর আনুষ্ঠানিকভাবে এই সরকারের বিদায় যে শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা, সেই বিষয়টিও স্পষ্ট করে দিলেন তিনি।

এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। আর সেখানেই তিনি বলেন, “এই সরকারটা চলে গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে এই মুহূর্তে কোনো সরকার নেই। যে সরকারের মুখ্যমন্ত্রী সরকারি কর্মচারীদের ওপর আক্রমণ করেন, তাও আবার পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে, ফাইল ছিনতাই করেন, আবার সেই ফাইল পুলিশ নিয়ে গিয়ে আবার একটা গাড়িতে রাখে, আর মুহূর্তের মধ্যে সেই গাড়ির নম্বর প্লেট বদলে যায়, সেখানে আর যাই হোক, কোনো সরকার নেই। সরকার নেই, বিশ্বাস করুন। সরকার চলে গিয়েছে। সময়ের অপেক্ষা।”