প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এতদিন অভিযোগ করা হতো যে, বাংলাকে নাকি কেন্দ্রীয় সরকার বঞ্চিত করছে। এমনকি কেন্দ্রীয় সরকার বাংলাকে অর্থনৈতিক ভাবে ভাতে মারা চক্রান্ত করছে বলেও দাবি করতেন তৃণমূল নেতারা। তবে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী রাজ্যে এসে গোটা বিষয়টি পরিষ্কার করে দিলেন। বুঝিয়ে দিলেন, কেন্দ্রীয় সরকার উন্নয়নের চেষ্টা করলেও এবং রাজ্যের মাটিতে কেন্দ্রের উন্নয়নমূলক প্রকল্প পৌঁছে দেওয়ার সদিচ্ছা থাকলেও শুধুমাত্র তা আটকে যাচ্ছে তৃণমূল সরকারের রাজনীতির কারণে। তারা রাজনৈতিক কারণে বিভিন্ন প্রকল্প বাংলার মাটিতে পৌঁছতে দিচ্ছে না। যার ফলে তারা মানুষের সঙ্গে শত্রুতা করছে বলে এবার স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যে বক্তব্য সামনে আনলেন, তাতে রীতিমত চাপে পড়ে গেল এই রাজ্যের শাসক দল।
এতদিন কেন্দ্রীয় সরকার বাংলা বিরোধী, বিজেপি বাংলার মানুষের কথা বুঝতে পারে না, ইত্যাদি নানা অভিযোগ তৃণমূল নেতাদের করতে দেখা যেত। এমনকি তারা মাঝে মধ্যে অভিযোগ করত যে, বাংলার যে সমস্ত প্রকল্প রয়েছে, তা বন্ধ করার চক্রান্ত করছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। তবে সেই সমস্ত প্রকল্পকে বন্ধ না করে উল্টে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে যে সমস্ত প্রকল্প আনা হয়েছে, তার সুবিধে বাংলার মানুষকে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকার করলেও, তা শুধুমাত্র আটকে যাচ্ছে রাজ্যের তৃণমূল সরকারের কারণে। তারা রাজনৈতিক কারণে বাংলার মানুষের কাছে যাতে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা না পৌঁছে যায়, তার চেষ্টা প্রতি মুহূর্তে করে চলেছেন। গতকাল সিঙ্গুরের সভা থেকে আরও একবার সেই অভিযোগ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পাশাপাশি এই কাজ করে তৃণমূল বা রাজ্যের সাধারণ প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে শত্রুতা করছে বলেও দাবি করলেন তিনি।
এদিন সিঙ্গুরের সভায় বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর সেখানেই তিনি বলেন, “আমি পশ্চিমবঙ্গের কৃষক, মা-বোনেদের যথাসম্ভব সেবা করতে চাই। কিন্তু তৃণমূল সরকার এখানে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পকে পৌঁছতে দেয় না। এদের মোদীকে নিয়ে সমস্যা, আমি বুঝি। বিজেপির সঙ্গে শত্রুতা, সেটাও আমি বুঝি। কিন্তু তৃণমূল তো পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের সঙ্গেই শত্রুতা করছে। তৃণমূল এই রাজ্যের কৃষক, বেকার যুবক-যুবতী, মৎস্যজীবী এবং মা-বোনেদের সঙ্গে শত্রুতা করছে।”