প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর ক্ষমতা থেকে তোষণকারী রাজনীতির অবসান ঘটতেই এবার রাজ্যজুড়ে ঐতিহাসিক সত্য প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হলো। ২০ জুন তারিখটিকে সরকারিভাবে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসেবে মান্যতা দিয়ে রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও সরকার-পোষিত স্কুলে তা বাধ্যতামূলকভাবে উদযাপনের কড়া নির্দেশিকা জারি করল বিকাশ ভবন। রাজনৈতিক মহলের মতে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বর্তমান বিজেপি সরকারের জাতীয়তাবাদী লাইনে হেঁটেই এবার শিক্ষা দফতর এই ঐতিহাসিক ও সাহসী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল।
বিকাশ ভবনের জারি করা সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, আগামী ২০ জুন রাজ্যের প্রতিটি সরকারি ও সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলে বাধ্যতামূলকভাবে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালন করতে হবে। শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, পড়ুয়াদের এই দিনের আসল প্রেক্ষাপট বোঝাতে স্কুলগুলিতে প্রবন্ধ রচনা, কুইজ এবং বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে হবে। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই অনুষ্ঠানে স্কুলের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারীদের উপস্থিতি যেমন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, তেমনই আগামী ২৫ জুনের মধ্যে অনুষ্ঠানের ছবি ও রিপোর্ট শিক্ষা দফতরে পাঠানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
জাতীয়তাবাদী শিবিরের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করা হচ্ছিল যে, ১৯৪৭ সালের ২০ জুন অবিভক্ত বাংলার বিধানসভায় ভোটাভুটির মাধ্যমেই আজকের ‘পশ্চিমবঙ্গ’ রাজ্যের জন্ম হয়েছিল। ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সেই ঐতিহাসিক লড়াইয়ের ফলেই বাঙালি হিন্দুরা একটি নিজস্ব ভূখণ্ড পেয়েছিল, যা আজ পাকিস্তান বা বাংলাদেশের অংশ হওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে। বিগত দিনে ক্ষমতাচ্যুত তৃণমূল সরকারের তোষণের রাজনীতির কারণে এই পরম সত্যকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলেছিল বলে অভিযোগ গেরুয়া শিবিরের। এমনকি পূর্বে পয়লা বৈশাখকে জোর করে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ ঘোষণা করে একটি কৃত্রিম আবেগ তৈরির অপচেষ্টাও হয়েছিল। কিন্তু বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসতেই সেই ভ্রান্ত ইতিহাসকে ছুড়ে ফেলা হলো। ২০ জুনের অমোঘ সত্যকেই আজ স্কুলের সিলেবাস ও কর্মসূচিতে প্রধান জায়গা দিল নয়া সরকার।
এই নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক মাধ্যম থেকে শুরু করে সর্বত্রই বর্তমান শাসক দল তথা বিজেপি শিবিরের সমর্থকেরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন। দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, রাজ্যে এতদিনে প্রকৃত ইতিহাস চর্চার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া, “যারা ২০ জুনকে অস্বীকার করে পশ্চিমবঙ্গকে পূর্ব পাকিস্তানের অংশ বানানোর চক্রান্তকে আড়াল করতে চেয়েছিল, এই নির্দেশিকা সেই দেশবিরোধী ও তোষণকারী মানসিকতার গালে এক বড়সড় চড়”। নতুন প্রজন্ম এবার জানতে পারবে, কোন রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম এবং দেশভাগের যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে এই রাজ্যের জন্ম হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকারের এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাব্যবস্থা ও সংস্কৃতির রূপরেখা সম্পূর্ণ বদলে দিতে চলেছে, বলাই বাহুল্য।