প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-উৎসবের আবহে রাজ্য রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন সৌজন্যের ঐতিহাসিক বিস্ফোরণ! পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বর্তমানে সংশোধনাগারে থাকা তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা তথা প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর ভূয়সী প্রশংসা শোনা গেল রাজ্যের বর্তমান বিজেপি সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের মুখে। শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রকাশ্য মঞ্চ থেকেই বিরোধী শিবিরের প্রাক্তন বিধায়কের সাংগঠনিক দক্ষতা ও তাঁর পুজো পরিচালনার ক্ষমতাকে মন থেকে কুর্নিশ জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। উল্লেখ্য, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে এই বিধাননগর কেন্দ্রেই সুজিত বসুকে পরাজিত করে বিধায়ক এবং পরবর্তীতে ক্যাবিনেট মন্ত্রী হয়েছেন ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তবে ভোটের লড়াই বা তীব্র রাজনৈতিক আদর্শের সংঘাত দূরে সরিয়ে রেখে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের প্রাক্কালে তাঁর এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে সম্পূর্ণ নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
শ্রীভূমির পুজো মণ্ডপের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় অত্যন্ত বিনম্রতার সঙ্গে স্বীকার করেন যে, সক্রিয়ভাবে এত বড় মাপের একটি পুজো পরিচালনা করার মতো সাংগঠনিক ক্ষমতা তাঁর নিজের নেই। তিনি প্রকাশ্য মঞ্চে স্পষ্ট ভাষায় বলেন: “সুজিত বসু যে জায়গায় পুজোটিকে নিয়ে গেছেন, তাঁর সেই দক্ষতাকে কটূক্তি করার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আমরা বিরোধী শিবিরে হলেও, ওঁর সাংগঠনিক ক্ষমতাকে আমি মন থেকে কুর্নিশ জানাই।” মন্ত্রী আরও যোগ করেন যে, সুজিত বসু শ্রীভূমির পুজোকে যে উচ্চতায় ও আন্তর্জাতিক মান্যতায় নিয়ে গেছেন, তা আজ শুধু কলকাতা নয়, সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।
শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের অন্যতম প্রধান পুজো উদ্যোক্তা সুজিত বসুর পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপি সরকারের এই প্রভাবশালী মন্ত্রী এক গভীর তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দেন। তিনি স্পষ্ট জানান, রাজনৈতিক ক্ষমতা বা রাজ্যে শাসন ব্যবস্থার পালাবদল হওয়ার সাথে সাথেই কোনও পুজো কমিটি বা অ্যাসোসিয়েশনের কর্তাব্যক্তিদের জোরপূর্বক বদলে দেওয়া উচিত নয় এবং তিনি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে কখনও তেমনটা চান না। বর্তমানে সুজিত বসু আইনি জটিলতার কারণে শ্রীঘরের ভেতরে থাকলেও, শ্রীভূমির পুজো যে তাঁর তৈরি করা রূপরেখাতেই এগিয়ে চলেছে, তা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, যদি বর্তমানে কেউ সস্তা রাজনীতির খাতিরে প্রাক্তন বিধায়কের এই কাজের সমালোচনা করেন, তবে তিনি তা কোনওভাবেই মেনে নেবেন না। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের মুখে দাঁড়িয়ে ক্ষমতার বৃত্তে থাকা এক বিজেপি মন্ত্রীর মুখে তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতার এই স্তুতি রাজনৈতিক তরজার ঊর্ধ্বে উঠে এক পরম সৌজন্যের নজির হিসেবেই দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।