প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এবার তিলোত্তমার পুরবোর্ড নিজেদের দখলে নিতে অল-আউট ঝাঁপানোর প্রস্তুতি শুরু করল ভারতীয় জনতা পার্টি। দুর্গাপুজোর আগেই কলকাতা পুরসভার (KMC) নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে আজ, মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট ২০২৬) এক অত্যন্ত উচ্চপর্যায়ের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসল রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। চলতি বছরের নভেম্বর বা ডিসেম্বরের গোড়াতেই কলকাতা পুরসভার নির্বাচন সম্পন্ন হতে পারে—এমন জোরালো সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই এই মেগা বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

নির্বাচনী বৈতরণী পার করতে এদিনের বৈঠক থেকে একটি বিশেষ হাই-লেভেল কমিটি (Special Election Management Committee) গঠন করেছে রাজ্য বিজেপি। এই কমিটিই মূলত ওয়ার্ডভিত্তিক প্রচার, রণকৌশল এবং প্রার্থী বাছাইয়ের প্রাথমিক রূপরেখা তদারকি করবে। রাজনৈতিক অলিন্দে জোর জল্পনা, আগামী নভেম্বর মাসেই সম্পন্ন হতে পারে কলকাতা পুরসভার ভোটগ্রহণ পর্ব। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, আগামী ৭ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কলকাতা পুরসভার নতুন বোর্ড গঠন করা হবে। সেই ডেডলাইন মাথায় রেখেই পুজো আসার আগেই বুথ স্তরে কোমর বেঁধে নামছে গেরুয়া শিবির।

সম্প্রতি হওয়া ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের (Delimitation) জেরে কলকাতা পুরসভার মোট ওয়ার্ডের সংখ্যা ১৪৪ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯টিতে। এই পরিবর্তিত মানচিত্রে বিজেপির রণকৌশল মূলত ৩টি বিষয়ের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। নতুন সীমানাভুক্ত ২০৯টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে বুথভিত্তিক শক্তির চুলচেরা বিশ্লেষণ। কলকাতার মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য এবং স্থানীয় স্তরে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি রয়েছে এমন মুখদের প্রার্থী তালিকায় অগ্রাধিকার দেওয়া। জলযন্ত্রণা, ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণ ও পুরসভার বিগত জমানার দুর্নীতির ইস্যুগুলিকে সামনে রেখে দুর্গাপুজোর জনসংযোগ উৎসব থেকেই পুরোদমে প্রচার শুরু করা। বিধানসভা নির্বাচনের সাফল্যের ধারা ধরে রেখে কলকাতার নগর প্রশাসনও এবার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে মরিয়া বিজেপি। আজকের এই সাংগঠনিক বৈঠকের পর পুজো কাটতেই যে কলকাতার রাজপথ পুরভোটের প্রচারে উত্তপ্ত হতে চলেছে, তা স্পষ্ট।