প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলার রাজনৈতিক ক্ষমতা হারানোর পর যে তৃণমূল কংগ্রেসের পায়ের তলার মাটি পুরোপুরি সরে গিয়েছে, তার জীবন্ত প্রমাণ মিলল ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের গণনাকেন্দ্রে। সদ্য সমাপ্ত সাধারণ নির্বাচনে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর, এই নির্বাচনে দলটির সাংগঠনিক কঙ্কালটা একেবারে বেরিয়ে পড়েছে। সপ্তম রাউন্ডের গণনা শেষে যা পরিস্থিতি, তাতে তৃণমূলকে স্রেফ খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়ে ফলতার মাটিতে একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।
গণনাকেন্দ্রের সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিজেপি প্রার্থী তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে রেকর্ড ২৬,৩৩৯ ভোটের আকাশচুম্বী ব্যবধানে লিড নিয়েছেন। চার প্রধান দলের প্রাপ্ত ভোটের বাস্তব চিত্রটি এই রকম। বিজেপি: ৪৪,৭৯২ vote (শীর্ষে, অপ্রতিরোধ্য) সিপিএম: ১৮,৪৫৩ vote (দ্বিতীয় স্থান) কংগ্রেস: ৪,২০৭ vote (তৃতীয় স্থান) তৃণমূল কংগ্রেস: ২,১২৩ vote (চতুর্থ স্থানে ধূলিসাৎ)
যে দল কিছুদিন আগেও ক্ষমতার অলিন্দে আসীন ছিল, সাধারণ নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর পর ফলতার সচেতন ভোটাররা তাদের এক ধাক্কায় চার নম্বরে আছাড় মেরেছেন। মাত্র ২,১২৩ টি ভোট পেয়ে এখন স্রেফ অস্তিত্ব বাঁচানোর করুণ লড়াই লড়তে হচ্ছে তৃণমূলকে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর জনমানসে এই দলের গ্রহণযোগ্যতা যে শূন্যের কোঠায় ঠেকেছে, এই পরিসংখ্যান তারই অকাট্য ও নির্মম প্রমাণ। সপ্তম রাউন্ডেই ৪৪ হাজারেরও বেশি ভোট পকেটে পুরে বিজেপি প্রমাণ করে দিয়েছে, এই মুহূর্তে রাজ্যের মানুষের একমাত্র বিশ্বাসযোগ্য এবং শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি তারাই। বিজেপির এই বিপুল লিড স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, মানুষ কেবল পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েই ক্ষান্ত হননি, বরং পদ্ম শিবিরের জাতীয়তাবাদী ও উন্নয়নমুখী নীতির ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে বাকি সব দলকে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছেন। এই রাউন্ডের শেষে বামেরা দ্বিতীয় এবং কংগ্রেস তৃতীয় স্থান দখল করেছে।
ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, ফলতার সচেতন ভোটাররা প্রাক্তন শাসক দলের প্রতি নিজেদের তীব্র অনাস্থা ও ক্ষোভ ইভিএমে এমনভাবে উগরে দিয়েছেন, যার জেরে তারা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বাম-কংগ্রেসের থেকেও কয়েক যোজন পিছিয়ে পড়েছে। রাজনৈতিকভাবে তৃণমূল এখন সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সচেতন ভোটারদের এই রায়কে কোনোভাবেই অস্বীকার করার উপায় নেই। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, এই ফল স্পষ্ট করে দিল যে রাজ্যে বিজেপির আধিপত্য এখন সুদৃঢ় এবং বিদায়ী দলের সাংগঠনিক অস্তিত্ব আগামী দিনে চিরতরে মুছে যাওয়ার সংকটের মুখে। ফলতার এই ট্রেন্ড শেষ রাউন্ড পর্যন্ত বজায় থাকলে বিজেপির জয়ের ব্যবধান যে আরও নজিরবিহীন ইতিহাস তৈরি করবে—তা বলাই বাহুল্য।