প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বুথ দখল, পেশিশক্তি আর চেনা হুমকির রাজনীতি যে সচেতন জনতা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে, ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের ফলাফল আজ তা হাতেনাতে প্রমাণ করছে। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর বিরোধী আসনে বসা তৃণমূলের পায়ের তলার মাটি যে এখন কতটা কঙ্কালসার, দশম রাউন্ডের গণনা শেষে তা স্পষ্ট। ফলতার নির্বাচনী ময়দানে কার্যত সুনামি এনেছেন বিজেপি প্রার্থী। প্রাক্তন শাসকের সমস্ত অহংকার আর সস্তার বয়ানকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়ে বিপুল ব্যবধানে লিড বজায় রেখেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)।

গণনা কক্ষ থেকে পাওয়া অফিশিয়াল পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দশম রাউন্ডের শেষে বিজেপি প্রার্থী একাই টেনে নিয়েছেন ৬৪,২৩৮টি ভোট। অন্যদিকে, ভোটগ্রহণের দু’দিন আগেই রণে ভঙ্গ দেওয়া তৃণমূল প্রার্থীর ঝুলিতে পড়েছে মাত্র ৩,৩০৪টি ভোট। রাজনৈতিক মহলের মতে, পুনর্নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারি ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার কারণেই বিরোধী শিবিরের আসল ক্ষমতা প্রকাশ্যে চলে এসেছে। ভয়মুক্ত ভোট পেতেই ফলতার আমজনতা যে বিজেপির পক্ষে রায় দিয়েছেন এবং প্রাক্তন শাসকের জামানত বাজেয়াপ্তের পরিস্থিতি তৈরি করেছেন, তা তৃণমূলের এই শোচনীয় সংখ্যাই বলে দিচ্ছে।

বিরোধী তৃণমূলকে বহু পিছনে ফেলে এই মুহূর্তে দ্বিতীয় স্থানে লড়াই করছে সিপিএম প্রার্থী। তবে তাদের প্রাপ্ত ভোট মাত্র ২৫,২৯৮। দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও বিজেপির ঝড়ের সামনে তারা কার্যত খড়কুটোর মতোই উড়ে গেছে। অন্যদিকে, কংগ্রেসের ঝুলি প্রায় শূন্য, তারা পেয়েছে মাত্র ৬,৪২৯টি ভোট। আপাতত প্রাপ্ত ভোটের হিসাব বলছে, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সিপিএম-এর থেকে ৩৮,৯৪০ ভোটের বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন বিজেপি প্রার্থী। আর তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির ভোটের ব্যবধান এক ধাক্কায় ৬০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

ফলতার এই ধারা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, মানুষ আর কোনো ভাওতাবাজিতে ভুলছেন না। নবান্নে বিজেপি সরকার গঠনের পর ফলতার বুকে এই ঐতিহাসিক উত্থান পদ্ম শিবিরের এক নতুন বিজয় অধ্যায়ের সূচনা করল। চূড়ান্ত জয় এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।