প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দেশনায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে করা বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ এবং নবান্নের নজিরবিহীন অ্যাকশনের মুখে পড়ে অবশেষে নিজের অবস্থান থেকে পিছপা হলেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ নগেন্দ্রনাথ রায় ওরফে অনন্ত মহারাজ। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে রাজ্য সরকার তাঁর ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান প্রত্যাহার করার পর, বৃহস্পতিবার রাতেই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করে প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশ করেন তিনি। হাতে থাকা একটি লিখিত কাগজ দেখে রিডিং পড়ে মাত্র ১৭ সেকেন্ডের এই সংক্ষিপ্ত ভিডিও বার্তায় অনন্ত মহারাজকে বলতে শোনা যায়, “নেতাজির প্রতি সম্মান জানিয়ে বলছি, নেতাজি সম্পর্কে আমার কিছু অনিচ্ছাকৃত বক্তব্যের জন্য কেউ যদি মানসিকভাবে আঘাত পেয়ে থাকেন, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।”
গত ১৯ জুলাই দিনহাটায় দাঁড়িয়ে নেতাজিকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ বলা এবং আজাদ হিন্দ ফৌজের ভূমিকা নিয়ে একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন অনন্ত মহারাজ। এই নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হওয়া সত্ত্বেও গতকাল (বৃহস্পতিবার) সকালেও তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে দাবি করেছিলেন যে তিনি কোনো ভুল বলেননি এবং বইয়ের তথ্যই তুলে ধরেছেন।কিন্তু বৃহস্পতিবার বিকেলের পর রাজ্য প্রশাসন তাঁর বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ কড়া অবস্থান গ্রহণ করে। বৃহস্পতিবার বিকেলে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের বিজ্ঞপ্তি জারি করে তৃণমূল জমানায় পাওয়া (২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাজ্যের সর্বোচ্চ সম্মান ‘বঙ্গবিভূষণ’ বাতিল করে দেয় নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া নির্দেশের পর রাজ্যজুড়ে নেতাজি অবমাননাকারী পোস্টের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান শুরু হয় এবং কোচবিহারে অনন্ত মহারাজের অনুগামীসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়।
আইনি জট এবং গ্রেফতারির খাঁড়া সরাসরি নিজের দিকে ধেয়ে আসছে দেখেই এই স্বঘোষিত ‘মহারাজ’ তড়িঘড়ি রাতেই ভিডিও বার্তা দিয়ে ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা করলেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। অনন্ত মহারাজ তাঁর মন্তব্যকে ‘অনিচ্ছাকৃত’ বলে দুঃখপ্রকাশ করলেও তাঁর আইনি বিড়ম্বনা কিন্তু কাটছে না। অল ইন্ডিয়া ফরোয়ার্ড ব্লকের পক্ষ থেকে তাঁর এই ক্ষমা চাওয়াকে লোকদেখানো বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই কোচবিহারের কোতোয়ালি থানায় অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট আইনি ধারায় এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, জাতীয় নায়ককে অপমানের দায়ে অনন্ত মহারাজের রাজ্যসভা পদ অবিলম্বে খারিজ করতে হবে এবং তাঁকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। রাজ্য প্রশাসনের তরফে সাফ জানানো হয়েছে, আইন সবার জন্য সমান এবং অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জারি থাকবে। অনন্ত মহারাজের এই ভিডিও বার্তা এখন উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন কী মোড় আনে, সেটাই দেখার।