প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-লোকসভা এবং আসন্ন একাধিক রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে সর্বভারতীয় সাংগঠনিক স্তরে এক নজিরবিহীন এবং ঐতিহাসিক রদবদল ঘটাল ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। সোমবার (১৭ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে বিজেপির জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন তাঁর ৬৫ সদস্যের নয়া কেন্দ্রীয় কমিটির আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশ করেছেন। এই মেগা রদবদলে সবচেয়ে বড় চমক এসেছে দলের আইটি সেল ও বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণে। দিল্লির এই নতুন চালের মাধ্যমে একদিকে যেমন দীর্ঘদিনের হেভিওয়েটদের ছাঁটাই করা হয়েছে, তেমনই রাজ্য রাজনীতিতে ভারসাম্য বজায় রাখতে পশ্চিমবঙ্গ থেকে দুই হেভিওয়েট মুখকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে গুরুভার দেওয়া হয়েছে।

এই সাংগঠনিক রদবদলের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর এবং বড় সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে বিজেপির আইটি ও সোশ্যাল মিডিয়া সেলকে কেন্দ্র করে। ২০১৫ সাল থেকে একটানা বিজেপির জাতীয় তথ্য ও প্রযুক্তি সেলের প্রধান (National Convenor) পদে থাকা অমিত মালব্যকে তাঁর পদ থেকে সম্পূর্ণ সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর জায়গায় আইটি সেলের নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ছত্তীসগঢ়ের অভিজ্ঞ ডেটা অ্যানালিস্ট তথা প্রবীণ সোশ্যাল মিডিয়া স্ট্র্যাটেজিস্ট দীপক মাহাস্কে (Deepak Mhaskey)-কে। পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিকে মাথায় রেখে দিল্লির কেন্দ্রীয় কমিটিতে বাংলার দুই পরিচিত মুখকে সরাসরি অন্তর্ভুক্ত করেছেন সভাপতি নীতিন নবীন। রাজ্য বিজেপি থেকে সরাসরি সর্বভারতীয় সহ-সভাপতির মতো শীর্ষ পদে বসানো হয়েছে কলকাতার বিশিষ্ট চিকিৎসক তথা ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডঃ মধুছন্দা কর-কে। দলের সর্বভারতীয় জাতীয় সম্পাদকের গুরুদায়িত্ব পেয়েছেন আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ তথা চা-বলয়ের হেভিওয়েট আদিবাসী নেতা মনোজ টিগ্গা।

বিজেপির নতুন টিমে পুরোনো এবং অভিজ্ঞ হেভিওয়েটদের আবার ফ্রন্টলাইনে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বিজেপির নয়া কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ পদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান নেতা পীযূষ গোয়েল-কে। হাইপ্রোফাইল সাধারণ সম্পাদকের তালিকায় সগৌরবে প্রত্যাবর্তন ঘটেছে হাইভোল্টেজ নেত্রী স্মৃতি ইরানি এবং ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব-এর। সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি: ডঃ মধুছন্দা করের পাশাপাশি সহ-সভাপতি পদে রাখা হয়েছে রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়া এবং বর্ষীয়ান আরএসএস থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক নেতা রাম মাধব-কে।

নীতিন নবীনের এই নতুন টিমে মহিলা ও পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে কমিটিতে মোট ১২ জন মহিলা স্থান পেয়েছেন। বিশেষত বাংলার ক্ষেত্রে মনোজ টিগ্গা ও ডঃ মধুছন্দা করের অন্তর্ভুক্তি প্রমাণ করে যে, দিল্লির নেতৃত্ব রাজ্য রাজনীতিতে আদিবাসী এবং মহিলা ভোটব্যাঙ্ককে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে।