প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে আজ সল্টলেকের এক অভিজাত প্রেক্ষাগৃহে রাজ্য রাজনীতির পারদ চড়িয়ে দিল ভারতীয় জনতা পার্টি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে প্রকাশিত হলো বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহার, যার পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে ‘বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ সংকল্পপত্র’। তবে এবারের এই ইস্তাহার তৈরির প্রক্রিয়া এবং মঞ্চের উপস্থিতি— দুইই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বিশেষ নজরে রয়েছে।

আজকের এই হাই-ভোল্টেজ অনুষ্ঠানে অমিত শাহের সঙ্গে এক সারিতে দেখা গেল রাজ্য বিজেপির প্রায় সব হেভিওয়েট মুখদের। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, এবং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ তাপস রায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে দলের অভ্যন্তরীণ সংহতি এবং ‘টিম বেঙ্গল’-এর চেহারাটা আজ স্পষ্ট করে দিল বিজেপি নেতৃত্ব। বিশেষ করে তাপস রায়ের মত অভিজ্ঞ নেতাকে ইস্তাহার কমিটির নেতৃত্বে রাখা এক সুকৌশলী চাল বলে মনে করা হচ্ছে।

ইস্তাহার কমিটির সভাপতি তাপস রায় আজ মঞ্চ থেকে যা দাবি করেছেন, তা রীতিমত সাড়া ফেলে দিয়েছে। তিনি সাফ বলেন, ‘‘এটা ঠান্ডা ঘরে বসে তৈরি করা কোনও সঙ্কল্পপত্র নয়’’। তাঁর দেওয়া তথ্যে উঠে এসেছে এক বিশাল কর্মযজ্ঞের ছবি। প্রায় এক কোটিরও বেশি মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাঁদের চাহিদাকে এই নথিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের আনাচে-কানাচে রাখা হয়েছিল ১০৪৩টি পরামর্শ বক্স। কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির জন্য নয়, বরং রিকশাচালক থেকে শুরু করে চিকিৎসক, শিক্ষক ও দিনমজুর— সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের অভাব-অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে এই ‘সংকল্পপত্র’ তৈরি হয়েছে।

তাপস রায়ের ভাষায়, এটি কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, এটি বাংলার মানুষের জন্য বিজেপির দেওয়া এক ‘ভরসাপত্র’। বিজেপির এই কৌশল সরাসরি তৃণমূলের ‘জনসংযোগ’ মডেলকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। এক কোটি মানুষের কাছে পৌঁছানোর দাবি করার মাধ্যমে বিজেপি প্রমাণ করতে চাইছে যে, তারা সাধারণ মানুষের পালস বুঝতে পেরেছে। বিশেষ করে রিকশাচালক বা প্রান্তিক শ্রমজীবী মানুষের কথা উল্লেখ করে তারা এটা স্পষ্ট করে দিল যে, তাদের নজর এবার বাংলার বিশাল শ্রমজীবী ভোটব্যাঙ্কের দিকে।

অমিত শাহের হাত ধরে আজ যে সঙ্কল্পপত্র উন্মোচিত হলো, তাতে কর্মসংস্থান, নারী সুরক্ষা এবং শিল্পের একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতির কথা শোনা যাচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষের এই ‘ভরসাপত্র’ শেষ পর্যন্ত ব্যালট বক্সে কতটা ‘ভোট’ হয়ে জমা হয়, এখন সেটাই দেখার। বাংলার মসনদ দখলের লড়াইয়ে এই সংকল্পপত্র কি বিজেপির জন্য তুরুপের তাস হবে? সময় তার উত্তর দেবে।