প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- দক্ষিণপন্থী দলগুলিতে গ্রুপ থাকবে, এটা অত্যন্ত স্বাভাবিক। সেই মত বিজেপিতেও বিভিন্ন গোষ্ঠী রয়েছে। অনেকেই বলাবলি করেন যে, বিজেপি ক্ষমতায় আসবার আগেই পশ্চিমবঙ্গে এত গ্রুপ। তাহলে ক্ষমতায় আসার পর তাদের অবস্থা কি হবে? অনেকে আবার এটাও বলেন যে, যারা দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত, তারা এখন ক্রমশ পিছনের সারিতে পড়ে গিয়েছেন নব্য বিজেপির কারণে। কিন্তু এই সমস্ত কথা যে অপপ্রচার ছাড়া আর কিছু নয়, তা গতকাল একেবারে দিনের আলোর মত স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। ভারতীয় জনতা পার্টি যে আর যাই হোক, কোনো প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির মত চলে না, তা গতকাল প্রমাণ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় বিজেপি। দলের প্রথম দিন থেকে একদম পুরোনো মুখ হিসেবে পরিচিত রাহুল সিনহা। অনেক কঠিন সময়ে তিনি দলের দায়িত্ব সামলেছেন। আর বর্তমান সময়ে বিজেপি যখন পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা দখলের কাছাকাছি চলে এসেছে, যখন আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ফলাফলের পরেই বিজেপি ক্ষমতায় আসবে বলে আশা প্রকাশ করছেন নেতারা, ঠিক তার আগেই রাজ্যসভার নির্বাচনে এই পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রার্থী করা হয়েছে সেই রাহুল সিনহাকে। আর দীর্ঘদিনের একজন পুরোনো মুখকে প্রার্থী করার কারণে যারা দীর্ঘদিন ধরে বিজেপি করছেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে বিজেপি কর্মী হয়ে লড়াই করছেন মাঠে ময়দানে, তারা অনেকটা উজ্জীবিত হলেন। আর প্রার্থী হওয়ার পর সেই সমস্ত পুরনো কর্মীদের হতাশ না হয়ে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করার বার্তা দিলেন রাহুল সিনহা। বুঝিয়ে দিলেন, সঠিক সময়েই মূল্যায়ন করবে দল।
গতকালই খবর আসে যে, পশ্চিমবঙ্গ থেকে যে রাজ্যসভার আসনে বিজেপির জয়লাভ নিশ্চিত, সেই আসনে প্রার্থী করা হচ্ছে রাহুল সিনহাকে। অনেকেই বিভিন্ন কথা বলছেন। তৃণমূলের পক্ষ থেকে কটাক্ষ করে বলা হচ্ছে, রাহুলবাবু তো কোনোদিনই জিততে পারেননি। এবার অন্তত তিনি রাজ্যসভায় যেতে পারবেন। তবে যে যাই বলুন না কেন, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই রাহুল সিনহাকে প্রার্থী করে বিজেপি কর্মীদের মনোবল অনেকটাই কিন্তু বাড়িয়ে দিয়েছেন। রাহুল সিনহার শত্রু দল তৃণমূল কংগ্রেসও স্বীকার করে নিচ্ছে যে, রাহুলবাবু দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে জড়িত। ফলে বিজেপি একটা জিনিস প্রমাণ করে দিয়েছে যে, সঠিকভাবে দল করলে, দলের সঙ্গে যুক্ত থাকলে পুরোনো কর্মীদের মূল্যায়ন তারা করে। এক্ষেত্রে তারা আর যাই হোক, তৃণমূল কংগ্রেসের মত নতুন কেউ দলেই তাকে রাতারাতি পাত পেড়ে খাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয় না। এক্ষেত্রে নতুন এবং পুরোনো সমন্বয় নিয়ে এবং সঠিক যোগ্যতাকে তুলে ধরেই যে ভারতীয় জনতা পার্টি চলে, তা একবার প্রমাণ হয়ে গেল রাহুল সিনহার এই রাজ্যসভায় যাওয়ার মধ্যে দিয়ে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আর সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে এবার পুরোনো কর্মীদের মনোবলকে আরও বাড়িয়ে দিলেন রাহুল সিনহা।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাহুল সিনহা। আর সেখানেই তিনি বলেন, “এই সিদ্ধান্তর মধ্যে দিয়ে পার্টির বিভিন্ন ক্ষেত্রে একটা মেসেজ গিয়েছে। পার্টির বহু পুরোনো কার্যকর্তা, যারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন, যারা দায়িত্ব পাচ্ছেন না, তাদের ক্ষেত্রে একটা বার্তা গেল যে, পার্টি নজর রাখছে। পার্টি কাউকে বলে না। অন্তত আমার এই দায়িত্ব দেখার পর তাদের মধ্যে একটা আশার আলো সঞ্চার হবে যে, না, আমরাও কোনো না কোনোভাবে কোনো একদিন লাইম লাইটে আসব, দায়িত্ব পাবো। এটাই হচ্ছে সবথেকে বড় পাওনা।”