প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
বঙ্গ রাজনীতির এপিসেন্টার নন্দীগ্রামে ফের একবার গর্জে উঠলেন ভূমিপুত্র শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার শিব মন্দিরে পুজো দিয়ে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের মনোনয়ন জমা দিতে যাওয়ার পথে তাঁর মেজাজ ছিল তুঙ্গে। গত রাতেই নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে কালীঘাট ও ভবানীপুর সহ একাধিক থানার আইসি ও ওসি বদল নিয়ে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। এই আবহেই শান্তনু সিনহা বিশ্বাসদের মত পুলিশ আধিকারিকদের গ্রেফতারির দাবি তুলে তৃণমূল শিবিরে চরম অস্বস্তি বাড়িয়ে দিলেন বিরোধী দলনেতা।

সকালে রেয়াপাড়ার প্রাচীন শিব মন্দিরে পুজো সারেন শুভেন্দু। মন্দির থেকে বেরোনোর পরেই সাংবাদিকদের প্রশ্নে বিস্ফোরক মেজাজে ধরা দেন তিনি। গত রাতের পুলিশি রদবদল প্রসঙ্গে তিনি সাফ জানান, শুধুমাত্র বদলি নয়, বরং নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে নির্দিষ্ট কিছু আধিকারিককে হেফাজতে নেওয়া জরুরি। তিনি স্পষ্ট বলেন, “সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, তবে শান্তনু সিনহা বিশ্বাসদের গ্রেফতার করা উচিত।” এরপরই তাঁর তূণ থেকে বেরোয় ‘শুদ্ধিকরণ’-এর তির। শুভেন্দু বলেন, “কিভাবে ব্লিচিং আর ফিনাইল দিয়ে নোংরা পরিষ্কার করতে হয়, তা বাবা মহাদেব আমাকে শিখিয়ে দিয়েছেন।” রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ‘পরিষ্কার’ করার বার্তা আসলে প্রশাসনের অন্দরে থাকা শাসকদলের একাংশ তল্পিবাহক আধিকারিক এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক প্রবল হুঁশিয়ারি।

তৃণমূলের ভোট কৌশলী সংস্থা আইপ্যাক-কেও রেয়াত করেননি নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী। অতীতেও এই সংস্থাকে নিয়ে সরব হয়েছেন তিনি। এদিন সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তিনি বলেন, “এখানে আইপ্যাকের ঢোকা বন্ধ করব আমি।” তাঁর দাবি, নির্বাচনের নামে কোনো বহিরাগত সংস্থা বা পেশাদার টিমকে দিয়ে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত রায়কে প্রভাবিত করার চেষ্টা নন্দীগ্রামের পবিত্র মাটিতে সফল হতে দেবেন না তিনি। উল্লেখ্য, গত নির্বাচনেও নন্দীগ্রামের মানুষ বহিরাগত তত্ত্বকে প্রত্যাখ্যান করেছিল, এবারও সেই একই মেজাজে বিজেপি এগোতে চাইছে।

নির্বাচন কমিশনের কড়া পদক্ষেপে যে কালীঘাট বা ভবানীপুরের মত ভিভিআইপি এলাকার পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যত প্রশ্নের মুখে পড়েছে, তা শুভেন্দুর কথাতেই স্পষ্ট। তিনি মনে করেন, পুলিশের একাংশ যেভাবে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হয়েছে, তার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এই রদবদলকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, এবার আর ‘ছাপ্পা’ বা ‘প্রভাব খাটানো’র রাজনীতি খুব একটা সহজ হবে না। শুভেন্দুর এই আক্রমণাত্মক মেজাজে স্বাভাবিকভাবেই চাপে ঘাসফুল শিবির।

মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে শুভেন্দু অধিকারীর এই ‘ব্লিচিং-ফিনাইল’ মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ভাইরাল। সমর্থকরা একে ‘দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের সংকল্প’ হিসেবে দেখছেন। তাঁর এই আত্মবিশ্বাস ও রণংদেহি মূর্তি নন্দীগ্রামের ভোট ময়দানকে আরও উত্তপ্ত করে তুলল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু এদিন কেবল মনোনয়ন জমা দিলেন না, বরং স্পষ্ট করে দিলেন যে—প্রশাসন থেকে রাজনীতি, সমস্ত স্তরে ‘পরিচ্ছন্নতা’ ফেরানোই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।

এখন দেখার, ব্লিচিং-ফিনাইল তত্ত্ব এবং আইপ্যাক-কে রুখে দেওয়ার এই ডাক ব্যালট বক্সে কতটা প্রভাব ফেলে। তবে শুভেন্দুর এই ‘রুদ্রমূর্তি’ যে তৃণমূল নেতৃত্বকে নতুন করে ভাবাবে, তা বলাই বাহুল্য।