প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে ভোটযুদ্ধের পারদ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই নিউটাউনের এক পাঁচতারা হোটেল থেকে বড়সড় রাজনৈতিক বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। প্রথম দফার ভোট শেষ হতেই শুক্রবারের সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের ‘বহিরাগত’ কটাক্ষের পাল্টা জবাব দিলেন তিনি। শাহ সাফ জানিয়ে দিলেন, আগামী ৫ তারিখের পর বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন একজন ‘খাঁটি বাঙালি’ এবং ‘ভূমিপুত্র’।
এদিন নিউটাউনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শাহ সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে বলেন, “আমি মমতা দিদিকে স্পষ্ট করে বলতে চাই, ৫ তারিখের পর বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা করা এবং বাংলায় জন্ম নেওয়া একজন ভূমিপুত্রই পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন।” শাহের এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল, কারণ গত কয়েক বছর ধরে তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপিকে ‘হিন্দি বলয়ের দল’ বা ‘বহিরাগতদের দল’ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রচার চালিয়ে আসছে। শাহের এই ঘোষণা সেই তকমা ঝেড়ে ফেলার এক সুচিন্তিত কৌশল।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন থেকেই তৃণমূলের প্রধান অস্ত্র ছিল ‘বাংলার মেয়ে’ বনাম ‘বহিরাগত’। অমিত শাহের এদিনের মন্তব্য সেই আবেগকে সরাসরি স্পর্শ করার চেষ্টা। তিনি স্পষ্ট করে দিলেন যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে কোনো অ-বাঙালিকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া হবে না।শাহের বক্তব্যে ‘বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা’ এবং ‘বাংলায় জন্ম’—এই দুটি বিষয়ের উল্লেখ অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। এটি মধ্যবিত্ত বাঙালি এবং গ্রামীণ ভোটারদের মধ্যে আস্থা ফেরানোর একটি চেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে জল্পনা চলছে যে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী কে হবেন? শাহ নির্দিষ্ট করে কারও নাম না বললেও, এদিনের বক্তব্যে তিনি বুঝিয়ে দিলেন সেই মুখ একজন বাঙালিরই হবে। এর ফলে দলের অন্দরে থাকা স্থানীয় নেতৃত্বের গুরুত্বও বৃদ্ধি পেল।
প্রথম দফার ভোট শেষ হয়েছে এবং ২৯ তারিখ দ্বিতীয় দফার গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। উত্তরবঙ্গ এবং জঙ্গলমহলের মত এলাকাগুলোতে যেখানে প্রথম দফায় ভোট হয়েছে, সেখানে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি রয়েছে। কিন্তু দক্ষিণবঙ্গের শহুরে এবং আধা-শহুরে এলাকায় ‘বাঙালি অস্মিতা’ বড় ফ্যাক্টর। গত লোকসভা বা বিধানসভা নির্বাচনের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাঙালি প্রধান এলাকাগুলোতে তৃণমূলের লিড তুলনামূলক বেশি ছিল। শাহের এই নতুন বয়ান সেই সমীকরণ বদলে দিতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে শাহের এই মন্তব্য একপ্রকার ‘মাস্টারস্ট্রোক’। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান রাজনৈতিক অস্ত্রকে ভোঁতা করে দিয়ে লড়াইটাকে এখন ‘বাঙালি বনাম বাঙালি’র পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিলেন তিনি। এখন দেখার, ২৯ তারিখের নির্বাচনে সাধারণ মানুষ এই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণকে কীভাবে গ্রহণ করেন।