প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের মহারণে আজ সবথেকে বড় রাজনৈতিক আলোড়ন তৈরি হতে চলেছে। সাতসকালেই বঙ্গে পা রাখতে চলেছেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। উত্তর থেকে দক্ষিণ— আজ তিনটি হাই-প্রোফাইল জনসভা করে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ এক ধাক্কায় কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে চলেছেন তিনি। রায়গঞ্জ, মালদা এবং মুর্শিদাবাদ— এই তিন জেলাতেই আজ রাহুলের ম্যারাথন প্রচার ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র কৌতূহল।

জাতীয় স্তরে বিজেপি-বিরোধী ‘ইন্ডি’ (I.N.D.I.A.) জোটের অন্যতম প্রধান মুখ রাহুল গান্ধী হলেও, বাংলার মাটিতে ছবিটা একেবারে ভিন্ন। দিল্লির এসি ঘরে বসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে হাসিমুখে ছবি তুললেও, বাংলায় এসে রাহুল গান্ধীকে লড়তে হচ্ছে সেই তৃণমূলের বিরুদ্ধেই। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই দ্বিচারিতা সাধারণ মানুষের মনে বড়সড় বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এই ‘জোটের জগাখিচুড়ি’ আসলে মানুষের চোখে ধুলো দেওয়ার চেষ্টা। বাংলায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়া আর দিল্লিতে জোটের শরিক হওয়া— এই স্ববিরোধী নীতি রাহুল গান্ধীর আজকের জনসভাগুলোতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

কংগ্রেসের সূচি অনুযায়ী, আজ রাহুল গান্ধীর প্রথম লক্ষ্য উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ। সেখানে প্রথম সভা শেষ করেই তিনি উড়ে যাবেন মালদার চাঁচলে। দিনের শেষ তথা তৃতীয় সভাটি তিনি করবেন মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে। মূলত সংখ্যালঘু ও গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্ক অধ্যুষিত এই তিন জেলাই একসময় কংগ্রেসের দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। ভোটের ঠিক মুখে রাহুলের এই ‘ব্যাক-টু-ব্যাক’ তিনটি সভা সেই হারানো জমি ফিরে পাওয়ার শেষ মুহূর্তের মরিয়া চেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাহুল গান্ধীর এই সফরে কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে কিছুটা অক্সিজেন ফিরলেও, ভোটব্যাঙ্কে এর বড় কোনো প্রভাব পড়বে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। একদিকে তৃণমূলের কড়া আক্রমণ আর অন্যদিকে বিজেপির শক্তিশালী সাংগঠনিক দাপট— এই দুয়ের যাঁতাকলে পড়ে বাংলার কংগ্রেস এখন অস্তিত্বের সংকটে। রাহুল গান্ধী আজ রায়গঞ্জ, মালদা বা সামশেরগঞ্জের মঞ্চ থেকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ঠিক কতটা সুর চড়ান, তার ওপর নির্ভর করছে স্থানীয় কর্মীদের মনোবল।

রাহুল গান্ধীর আগমনকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। স্থানীয় বিজেপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক শিবির এই সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ হলেও, সাধারণ মানুষের মধ্যে এই সভাগুলো ঘিরে ব্যাপক জল্পনা রয়েছে।

বিজেপি শিবিরের মতে, রাহুলের এই ‘ভোট-ভ্রমণ’ আসলে নির্বাচনী পর্যটন ছাড়া আর কিছুই নয়। তবে আজ এই তিন জনসভা থেকে রাহুল গান্ধী ঠিক কী কী রাজনৈতিক তাস খেলেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।