প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া হলেও সেই এসআইআরের নামে শুনানিতে যে সমস্ত অশান্তি হচ্ছে এবং যেভাবে তৃণমূল কংগ্রেস ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেদের প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রান করছে এবং অশান্তি তৈরি করার চেষ্টা করছে এবং আইন হাতে তুলে নিচ্ছে, তাতে প্রশ্ন উঠছে যে, কোথায় নির্বাচন কমিশন? কেন নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ দিল্লিতে বসে থেকে শুধুমাত্র গোটা ঘটনা প্রত্যক্ষ করে যাবে! কেন তারা বাংলায় একের পর এক আইন হাতে তুলে নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে না? কেন বাংলার মাটিতে এসে যে সমস্ত জেলায় এই এসআইআরের শুনানি প্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করার চেষ্টা করছেন কিছু মানুষ, যেভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রশ্রয়ে কিছু মানুষ আইন হাতে তুলে নিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জ্ঞানেশ কুমার রাজ্যে আসবেন না? এই সমস্ত প্রশ্ন যখন উঠছে, তখন এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর অশান্তির ঘটনায় প্রথম দিন থেকে জ্ঞানেশ কুমারকে রাজ্যে আসতে হবে বলে যে দাবি বিজেপির রাজ্য সভাপতি করেছিলেন, আরও একবার সেই একই দাবি করে বসলেন তিনি। এক্ষেত্রে বাংলায় এসআইআরের নামে যে প্রহসন এবং তামাশা চলছে, বিরক্তি প্রকাশ করে সেই ঘটনাতেও সোচ্চার হলেন শমীক ভট্টাচার্য।

বর্তমানে এসআইআরের শুনানি চলছে। আর সেই শুনানি পর্বে বিভিন্ন জায়গায় অশান্তি তৈরি হতে দেখা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষও অনেকাংশে বিরক্ত। কেননা তাদের সবকিছু ঠিক থাকা সত্ত্বেও যেভাবে তাদের হয়রান করা হচ্ছে, যেভাবে তাদের ডেকে পাঠানো হচ্ছে, তাতে অনেকেই বলছেন যে, এটা বাড়াবাড়ি হচ্ছে। তবে এর পেছনেও যে তৃণমূল কংগ্রেসের ইন্ধন রয়েছে এবং তারাই যে মানুষকে এসআইআরের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলতে নিজেদের প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে তাদের ডেকে পাঠাচ্ছে, সেই ব্যাপারে নিশ্চিত বিজেপি নেতারা। আর এখানেই গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে যে, তাহলে কোথায় নির্বাচন কমিশন? কেন নির্বাচন কমিশন এই বিষয়গুলোকে দেখতে পাচ্ছে না? যে সমস্ত প্রশাসনের আধিকারিকরা তৃণমূল কংগ্রেসের কথায় চলে গোটা প্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করে মানুষকে ক্ষেপিয়ে তোলার চেষ্টা করছে, কেন তাদের বিরুদ্ধে তারা ব্যবস্থা নিচ্ছে না? এমনকি কিছু জায়গায় যেভাবে আইন হাতে তুলে নিচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেসের কিছু মানুষ, তাতে কেন এখনও চুপ করে বসে রয়েছে দেশের নির্বাচন কমিশন? আর এই পরিস্থিতিতে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে পশ্চিমবঙ্গে এসে গোটা পরিস্থিতি সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করার আরও একবার দাবি জানালেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি।

এদিন এসআইআর যেভাবে চলছে পশ্চিমবঙ্গে, তাতে চরম বিরক্তি প্রকাশ করেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “জ্ঞানেশ কুমারকে এখানে আসতে হবে। বীরভূমে আসতে হবে, মুর্শিদাবাদে আসতে হবেহ ডোমকলে আসতে হবে, ভাঙ্গড়ে আসতে হবে, উত্তর ২৪ পরগণায় আসতে হবে। পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরের নামে যেভাবে প্রহসন চলেছে, যেভাবে বিএলওরা আক্রান্ত হয়েছেন, যেভাবে বিএলওদের দিয়ে ভুয়ো তথ্য আপলোড করিয়ে, সমাজের প্রতিষ্ঠিত মানুষদের, বৃদ্ধ মানুষদের আজকে শুনানিতে ডেকে আনা হচ্ছে, এটা করাচ্ছে তৃণমূল। আজকে দিকে দিকে আমরা ফর্ম সেভেন জমা করতে পারছি না। আমাদের কর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে এসআইআরের নামে একটা প্রহসন চলছে। তামাশা হচ্ছে। কিন্তু আমরা বলে দিয়েছি, নো এসআইআর, নো ভোট।”