প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলায় আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এক অভূতপূর্ব ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছে রাজ্য রাজনীতি। সুপ্রিম কোর্টের কড়া নজরদারিতে নির্বাচন কমিশন যে ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া চালিয়েছিল, তার চূড়ান্ত ফলাফল সামনে আসতেই রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কমিশন প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে, বাংলার ভোটার তালিকা থেকে কার্যত ‘সাফাই অভিযান’ চালিয়ে মুছে ফেলা হয়েছে প্রায় ৯০ লক্ষ সন্দেহভাজন নাম!

দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হচ্ছিল যে, পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় লক্ষ লক্ষ ‘ভুয়ো’ এবং ‘অনুপ্রবেশকারী’ ভোটারের নাম নথিভুক্ত রয়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সহ একাধিক বিজেপি নেতৃত্ব বারবার সরব হয়েছিলেন যে, মৃত ব্যক্তি এবং একই ব্যক্তির নাম একাধিক বুথে রেখে ভোটের ময়দানে কারচুপি করা হচ্ছে। এমনকি এই ডেমোগ্রাফিক পরিবর্তনের নেপথ্যে বড় কোনো ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিতও দিয়েছিল গেরুয়া শিবির। তালিকায় এই অস্বাভাবিক গরমিল নজরে আসার পর বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের দোরগোড়ায় পৌঁছায়। শীর্ষ আদালত নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেয় বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের মাধ্যমে প্রতিটি সন্দেহভাজন নাম খতিয়ে দেখতে।

কমিশনের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে যে ভয়াবহ চিত্রটি সামনে আসছে তা নিম্নরূপ: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সময় প্রাথমিক স্ক্রুটিনিতে প্রায় ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২ জন ভোটারের নাম সরাসরি বাদ দেওয়া হয়। প্রায় ৬০ লক্ষ ৬৬ হাজার ৭৫ জন ভোটারকে ‘বিচারাধীন’ বা সন্দেহভাজন ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নিযুক্ত প্রায় ৭০০ জন বিচার বিভাগীয় আধিকারিক এই তালিকাটি চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন।

কমিশনের সাম্প্রতিক সাপ্লিমেন্টারি তালিকা অনুযায়ী, ওই ৬০ লক্ষের মধ্যে প্রায় ৪৫% থেকে ৫৪%, অর্থাৎ ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩ জন ভোটারের নাম শেষ পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৯০ লক্ষ ৮৩ হাজার ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়লেন।

রিপোর্ট অনুযায়ী, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর ২৪ পরগনার মত সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে নাম বাদ পড়ার হার সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে শুধু মুর্শিদাবাদ জেলাতেই প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষের বেশি নাম বাদ গেছে। এছাড়া নদীয়া জেলাতেও বিপুল সংখ্যক সন্দেহভাজন ভোটারকে তালিকা থেকে ছাঁটাই করা হয়েছে বলে খবর। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশাল সংখ্যক নাম বাদ যাওয়া মানেই স্বচ্ছ নির্বাচনের পথে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া।

বিজেপি শিবিরের দাবি, এই ৯০ লক্ষ ভোটারই আসলে শাসক দলের ‘ছায়াসঙ্গী’ ছিল, যারা বছরের পর বছর ভোট লুটের কারিগর হিসেবে ব্যবহৃত হতো। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই প্রক্রিয়ার তীব্র বিরোধিতা করে একে ‘ভোটার দমন’ হিসেবে আখ্যা দিলেও কমিশনের বিচার বিভাগীয় স্বচ্ছতার কাছে কোনো যুক্তিই ধোপে টিকছে না। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাদের নাম বাদ পড়েছে তারা চাইলে উচ্চতর ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে পারেন। কিন্তু এই মুহূর্তে ভোটার তালিকায় যে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ চলেছে, তাতে আসন্ন নির্বাচনে বাংলার মাটিতে যে বড়সড় পরিবর্তন আসতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।