প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্বপ্নের ‘স্বচ্ছ ভারত মিশন’ এবার বাংলায় সম্পূর্ণ গতিতে বাস্তবায়িত হতে চলেছে। রাজ্যের সদ্য গঠিত ডাবল ইঞ্জিন সরকারের উন্নয়নমুখী নীতির প্রমাণ দিতে খোদ রাজপথে নামলেন পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। মুখে শুধু প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি নয়, নিজেই হাতে ঝাড়ু তুলে নিয়ে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার বাসস্ট্যান্ড এলাকা পরিষ্কার করে এক অনন্য নজির গড়লেন তিনি। মন্ত্রীর এই কড়া বার্তা স্পষ্ট করে দিল— মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নতুন মন্ত্রিসভা বাংলায় আর কোনও নাগরিক উদাসীনতা ও নোংরা আবর্জনা সহ্য করবে না।

বিগত সরকারের আমলের অলসতা ও ঢিলেমি ঝেড়ে ফেলে এবার কড়া শৃঙ্খলার পথে হাঁটছে নগরোন্নয়ন দফতর। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেছেন যে, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যজুড়ে যেখানে-সেখানে আবর্জনা ফেলা, থুতু-পানের পিক ফেলা বা নিষিদ্ধ প্লাস্টিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে কড়া আইনি জরিমানা চালু হচ্ছে। পুরনিগম ও শহরভেদে এই জরিমানার পরিমাণ ৫০ টাকা থেকে শুরু করে একধাক্কায় ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। সাধারণ মানুষকে নিজেদের অভ্যাস বদলানোর জন্য ৩ মাসের একটি যুক্তিসঙ্গত সময়সীমা দেওয়া হয়েছে, যার পর আর কোনও রেয়াত করা হবে না। কেন্দ্রীয় সরকারের ডিজিটাল ইন্ডিয়া ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, শহরকে আবর্জনামুক্ত করতে আনা হয়েছে অত্যাধুনিক জিও-ট্যাগড ‘স্বচ্ছ’ (Swachha) মোবাইল অ্যাপ। এবার থেকে পুরসভার কাজে আর কোনও ঢিলেমি চলবে না। কোনও নাগরিক রাস্তায় নোংরা দেখলে অ্যাপে ছবি তুলে পাঠালেই, মাত্র ১ থেকে ২ ঘণ্টার মধ্যে তা পরিষ্কার করতে বাধ্য থাকবে পুরনিগম। প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে নাগরিকদের ক্ষমতায়ন এবং দুর্নীতিমুক্ত পরিষেবার এই নতুন মডেল ইতিমধ্যেই সর্বস্তরে বিপুল প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

এদিনের হাই-প্রোফাইল অভিযানে মন্ত্রীর পাশে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক এস পোন্নাবলম এবং দুর্গাপুর নগর নিগমের কমিশনার আবুল কালাম আজাদ ইসলাম। জেলা ও পুর প্রশাসনের সর্বোচ্চ আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে মন্ত্রীর এই ঝটিকা সফর প্রমাণ করে যে, রাজ্যে আইনের শাসন এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নতুন বিজেপি সরকার কতটা সংকল্পবদ্ধ। স্থানীয় দোকানদার থেকে শুরু করে সাধারণ হকার— সকলকেই ডাস্টবিন ব্যবহার করার এবং চারপাশ পরিষ্কার রাখার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী।

রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটব্যাঙ্কের সস্তা তোষণ রাজনীতি ভুলে শহরকে সুন্দর ও উন্নত করে তোলার এই সৎ প্রয়াস এক ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। মোদীবাদ ও ডাবল ইঞ্জিনের উন্নয়নকে পাথেয় করে অগ্নিমিত্রা পালের এই সাহসী পদক্ষেপ বাংলাকে এক পরিচ্ছন্ন ও সোনার বাংলায় রূপান্তরিত করার দিকে বড় পদক্ষেপ।