প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দলীয় তহবিল ও কোটি কোটি টাকার নগদ লেনদেন মামলায় কলকাতা হাইকোর্টে বড়সড় ধাক্কা খেল ‘কালীঘাট তৃণমূল’ শিবির। গত ৭ জুলাই ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কের যে চারটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ (Freeze) করা হয়েছিল, তা অবিলম্বে ব্যবহারের অনুমতি দিতে স্পষ্ট মানা করে দিল আদালত। আজ, বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট ২০২৬) এই হাইপ্রোফাইল মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দেয়, এখনই এই অ্যাকাউন্টগুলি ব্যবহারের কোনো অন্তর্বর্তী অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।
শুনানি চলাকালীন কালীঘাট তৃণমূলের তরফে আদালতে জানানো হয়, ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কের ওই ৪টি অ্যাকাউন্টে সব মিলিয়ে দলের প্রায় ৮০৪ কোটি টাকা আটকে রয়েছে। দলের পক্ষ থেকে আবেদন জানিয়ে বলা হয়, “বেতন এবং বাড়িভাড়া দেওয়া ছাড়াও একটি রাজনৈতিক দলের আরও অনেক দৈনন্দিন খরচ থাকে।” তাই দলের স্বাভাবিক কাজকর্ম সচল রাখতে এই চারটি অ্যাকাউন্ট অবিলম্বে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হোক। এ ছাড়া দলের তরফে আরও ৪টি নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার অনুমতিও চাওয়া হয়।
কালীঘাট তৃণমূলের এই আর্জির পরিপ্রেক্ষিতে তীব্র আপত্তি জানান বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। তিনি মনে করিয়ে দেন, এর আগে শর্ত সাপেক্ষে এইচডিএফসি (HDFC) ব্যাঙ্কের তিনটি অ্যাকাউন্ট থেকে দলের দৈনন্দিন খরচ মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। বিচারপতি মন্তব্য করেন,”এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের ৩টি অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি ইতিপূর্বেই দেওয়া হয়েছে। এমতাবস্থায় যদি আবার এই ৪টি অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়, তবে আদালতের আগের নির্দেশের কোনো গুরুত্বই থাকবে না।”
অন্য দিকে, অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ রাখার পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে আদালতে মারাত্মক সব লেনদেনের খতিয়ান তুলে ধরে রাজ্য সরকার। রাজ্যের তরফে সওয়াল করে বলা হয়, “এই অ্যাকাউন্টগুলিতে কীভাবে কোটি কোটি টাকার নগদ লেনদেন হয়েছে, তা একবার আদালতের দেখা দরকার।”
আদালতে রাজ্যের আনা মূল অভিযোগগুলি হলো: ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে সুমিত রায় নগদে প্রায় ৭ কোটি টাকা এই অ্যাকাউন্টগুলিতে জমা করেছেন। দেবরাজ চক্রবর্তী নিজে নগদে ১০ কোটি টাকা এই অ্যাকাউন্টগুলিতে জমা করেছিলেন। রাজ্য দাবি করে, এই ফ্রিজ হওয়া অ্যাকাউন্টগুলি থেকেই সরাসরি প্রায় ৩০ কোটি টাকা স্থানান্তরিত (Transfer) করা হয়েছে ‘লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস’ (Leaps and Bounds) নামক সংস্থায়, যা দুর্নীতিতে অভিযুক্ত।
আদালত আপাতত কালীঘাট তৃণমূলের কোনো অন্তর্বর্তী আবেদনেই সাড়া দেয়নি। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দিয়েছেন, এই নতুন ৪টি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের মামলার শুনানিও পূর্ববর্তী HDFC ব্যাঙ্কের মামলার সঙ্গেই একত্রে করা হবে। উভয় পক্ষকে হলফনামা আদান-প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আগামী নভেম্বর মাসে এই মামলার পরবর্তী শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আগামী কয়েক মাস ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর এই ৮০৪ কোটি টাকা সম্পূর্ণ অবরুদ্ধই থাকছে।