প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আগামীকাল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার মহারণ। আর এই নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তার এমন কড়াকড়ি আগে দেখা গিয়েছে কি না, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অবাধ ভোট করাতে কার্যত নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, এবার প্রতিটি ভোটকেন্দ্রেই থাকছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া পাহারা। ছোট কেন্দ্র হোক বা বড়—জওয়ানদের নজর এড়িয়ে কারও ঢোকার সাধ্য নেই। প্রতিটি ভোটকেন্দ্র পিছু অন্তত হাফ সেকশন (৪ জন জওয়ান) বাহিনী মোতায়েন থাকছে। তবে বুথ সংখ্যা বেশি হলে সেই নিরাপত্তা বাড়িয়ে ২ সেকশন (১৬ জন জওয়ান) পর্যন্ত করা হতে পারে। উল্লেখ্য, প্রতি এক সেকশনে থাকছেন ৮ জন করে জওয়ান।

ভোটের ডিউটিতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এবার বড়সড় বদল আনা হয়েছে। বুথের ভেতর বা প্রধান নিরাপত্তা বলয়ে নয়, পুলিশের কাজ হবে শুধুমাত্র ভোটকেন্দ্রের বাইরে লাইন নিয়ন্ত্রণ করা। অর্থাৎ, বুথের মূল সুরক্ষার চাবিকাঠি থাকছে পুরোপুরি কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতেই। বিএসএফ (BSF), সিআরপিএফ (CRPF), সিআইএসএফ (CISF) এবং আইটিবিপি (ITBP)-র ডিরেক্টর জেনারেলরা স্বয়ং রাজ্যে এসে এই নিরাপত্তা ছক চূড়ান্ত করেছেন।

ভোটকেন্দ্রের বাইরেও যাতে কোনো অশান্তি না হয়, তার জন্য থাকছে ত্রিস্তরীয় ব্যবস্থা।প্রতি ১০ থেকে ১২টি ভোটকেন্দ্র পিছু থাকছে একটি করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর QRT (Quick Response Team)। প্রতিটি থানায় মোতায়েন থাকবে RT মোবাইল এবং HRFS ভ্যান। পাড়ার অলিগলিতে সাধারণ মানুষের ভয় কাটাতে পুলিশ বাইকে করে নিরন্তর টহল (Patrolling) দেবে।

কমিশনের এই ‘ফুলপ্রুফ’ নিরাপত্তা পরিকল্পনা বুথ দখল বা ছাপ্পা ভোটের আশঙ্কাকে কতটা রুখতে পারে, এখন সেটাই দেখার। কালকের ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর এই অতি-সক্রিয়তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে যেমন স্বস্তি আছে, তেমনই রাজনৈতিক শিবিরে চলছে জোর আলোচনা।