প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলার পূর্বতন শাসক শিবিরের রাজনৈতিক যুদ্ধ এবার চরম রূপ ধারণ করল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একচ্ছত্র ক্ষমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে সরাসরি উপড়ে ফেলার ডাক দিয়ে আগেই দিল্লির নির্বাচন কমিশনে (ECI) নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি জানিয়েছিল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘বিদ্রোহী’ শিবির। এবার সেই লড়াইকে এক ধাক্কায় বাংলার বুথ স্তর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যেতে এক চরম মাস্টারস্ট্রোক দিল তারা। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সম্পূর্ণ নতুন এবং সমান্তরাল ‘রাজ্য কমিটি’ (State Committee) ঘোষণা করে দিল ঋতপন্থী গোষ্ঠী। আর এই নতুন কমিটির শীর্ষ পদের নাম ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে ভূমিকম্প শুরু হয়েছে।

পারিবারিক একনায়কতন্ত্র ও ব্যক্তিপূজার অবসান ঘটানোর যুক্তি দিয়ে তৈরি এই নতুন রাজ্য কমিটির সভাপতির ব্যাটন তুলে দেওয়া হয়েছে উত্তরবঙ্গের এমন এক হেভিওয়েটের কাঁধে, যিনি একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ছিলেন। দক্ষিণ দিনাজপুরের দাপুটে এবং অত্যন্ত দক্ষ সংগঠক বিপ্লব মিত্রকে এই নতুন রাজ্য কমিটির সর্বোচ্চ ‘সভাপতি’ পদে বসানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিপ্লব মিত্রের মতো প্রবীণ ও মাঠপর্যায়ের নেতাকে সামনে রেখে কালীঘাটের সমীকরণ এক ধাক্কায় বদলে দেওয়াই মূল লক্ষ্য বিদ্রোহীদের।

চমকের এখানেই শেষ নয়, দক্ষিণবঙ্গের রাশ নিজেদের দখলে রাখতে অত্যন্ত সতর্কভাবে ঘুঁটি সাজিয়েছে নতুন এই কমিটি। কলকাতার অত্যন্ত প্রভাবশালী তথা সংখ্যালঘু মহলে সুপরিচিত তৃণমূল নেতা জাভেদ খানকে এই কমিটির ‘কার্যকরী রাজ্য সভাপতি’ (Working President) মনোনীত করা হয়েছে। কলকাতা এবং তার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে দলীয় কর্মীদের নিজেদের শিবিরে টেনে আনতেই জাভেদ খানের ওপর এই বিরাট ভরসা রাখা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

নতুন রাজ্য কমিটি গঠনের পরেই সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই লড়াই কোনো পদ বা দলীয় সম্পত্তির লড়াই নয়; এ লড়াই আসলে দলের আদি ও বঞ্চিত কর্মীদের সম্মান ফিরিয়ে দেওয়ার লড়াই। নতুন এই কমিটিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অভিষেকের কোনো ছবির অনুপস্থিতিই প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, এবার সরাসরি আর-পার লড়াইয়ের ময়দানে নেমেছেন তারা।

এই সমান্তরাল রাজ্য কমিটি ঘোষণার পরেই জল্পনা তুঙ্গে—বর্তমানে জোড়াফুল চিহ্নে থাকা বাকি জেলা স্তরের নেতা-কর্মীরা এবার কোন দিকে পা বাড়াবেন? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই নতুন কমিটির আত্মপ্রকাশের পর বাংলায় ঘাসফুল শিবিরের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে যেতে চলেছে।