প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের শালীনতার মাত্রা অতিক্রম করার মত মন্তব্য নতুন কিছু নয়। এর আগেও দেশবাসী এরকম বহু মন্তব্য দেখেছে। তার বিরোধী পক্ষের নেতা নেত্রীরা তো বটেই। এমনকি নিজের দলের এক মহিলা সাংসদকেও তিনি যেভাবে আক্রমণ করেছেন, তা স্বচক্ষে দেখতে পেয়েছেন দেশের মানুষ। বারবার তিনি সমালোচনার শিকার হয়েছেন। কিন্তু তারপরেও গঠনগত সমালোচনা না করে যেভাবে দেশের অর্থমন্ত্রীকে বেনজির ভাষায় আক্রমণ করলেন কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায়, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

গতকাল সংসদে তৃণমূলের মুখোশ খুলে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। বাংলায় যেভাবে আইনশৃংখলার অবনতি হচ্ছে, সেই সংক্রান্ত বক্তব্য তুলে ধরে নারী নির্যাতনের কথা বলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও চাপে ফেলে দিয়েছেন তিনি। আর তাতেই প্রবল গাত্রদাহ শুরু হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-নেত্রীদের। কিন্তু রাজনীতিতে তো শালীনতা বজায় রেখে আক্রমণ করতে হবে। কিন্তু সেসব কি ভুলে গেলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়? তিনি যেভাবে দেশের অর্থমন্ত্রীকে এবার আক্রমণ করে বসলেন, তা কি সত্যিই রাজনীতিতে সৌজন্যতা এবং শিষ্টাচারের পরিচয়? যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার সৌজন্যতার বার্তা দিয়েছেন, তার দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ সাংসদের মুখে কি এই ধরনের মন্তব্য শোভা পায়? তা নিয়ে উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন।

এদিন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের বক্তব্যকে খন্ডন করে তাকে বিরোধী ভাষায় আক্রমণ করেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অসম্ভব ঈর্ষা করেন নির্মলা সীতারমণ। এটা আমি আজ থেকে দেখছি না। গত ৭-৮ বছর ধরে দেখছি। কেন তিনি এত ঈর্ষাপরায়ণ? উনি জীবনে কোনোদিন প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না। জীবনে কোনোদিন মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবেন না। উনি জীবনে কোনোদিন প্রদেশের নেত্রীও হতে পারবেন না। রাজ্যসভা থেকে তাকে জিতিয়ে এনে রাখা হয়। জানি না, কীসের কারণে। অন্যথায় তাঁর অর্থ বিষয়ক ব্যাপার সামলানোর সামর্থ্য নেই। ওই বিষয়ে বলার কোনো অভিজ্ঞতা নেই। একটু ঝগডুটে গোছের উনি।” আর এখানেই বিজেপি বলছে, নির্মলা সীতারামনের বক্তব্য নিয়ে তাদের হাজারও আপত্তি থাকতেই পারে। কিন্তু তাই বলে দেশের অর্থমন্ত্রীকে এইভাবে ঝগড়ুটে বলে কি সত্যিই আক্রমণ করা যায়? সত্যিই কি এটা শোভনীয়? নিজেকে আর কত দেশের রাজনৈতিক মহলের কাছে খাটো করবেন কল্যাণবাবু? তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।