প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এর আগেও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনেক কটুক্তি, অনেক ভাষার ব্যবহার, অনেক অপব্যবহার দেখেছে বাংলা। সংসদে একটি কমিটির বৈঠকে তিনি কিভাবে তান্ডব করেছেন, তারপর কিভাবে এসে নাটক করেছেন, প্রতিমুহূর্তে তা দেখতে দেখতে বিরক্ত হয়ে গিয়েছে রাজ্যবাসী। তাই তৃণমূলের নেতাদের কাছ থেকে তারা আর সৌজন্যবোধ, শিষ্টাচারবোধ এগুলো কিছুই আশা করে না। রাজ্যের মানুষ এখন তৈরি আছে, তৃণমূলকে ক্ষমতা থেকে বিদায় দেওয়ার জন্য। তাই তৃণমূল নেতারা এখন হুমকি দিচ্ছেন, না গর্জন করছেন, তাতে সাধারণ মানুষের মাথাব্যথা নেই। কিন্তু যখন তৃণমূল বুঝতে পারছে যে, তারা ক্ষমতা থেকে চলে যাবে, তারপরেও তাদের মধ্যে কেন বিন্দুমাত্র নমনীয়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না? এরপরেও কেন তারা এত উগ্র হয়ে যাচ্ছে? এবার সেই প্রশ্নই তুলতে শুরু করেছে বিরোধীরা। আজ এসআইআরের প্রতিবাদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ধর্না শুরু করেছেন, সেইখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে যে কথা দেশের একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলে ফেললেন, তাতে “ছিঃ” জানানো ছাড়া আর কিছুই বলতে পারছে না বিরোধীরা।
আপনারা সকলেই জানেন যে, আজ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই এসআইআরের বিরুদ্ধে আবার নতুন করে একটি চিত্রনাট্য তৈরি করে ফেলেছেন। তিনি ধর্না করে ভাবছেন যে, তিনি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন। কিন্তু এসব করে যে কোনো লাভ নেই, তা সাধারণ মানুষও বুঝতে পারছেন। তাই কেউই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কর্মসূচিতে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিতেই হয়। যেমন, আজ সেই কর্মসূচিতেই বক্তব্য রাখছিলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। যেখানে তিনি সরাসরি দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনের জ্ঞানেশ কুমারকে আক্রমণ করে বসলেন। এই রাজ্যের শাসকদলের প্রধান নেত্রী, যিনি দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে যা ইচ্ছে, তাই বলে আক্রমণ করেন, তার অনুগত সেই দলের নেতারা যে সেই পথেই পা বাড়াবেন, এটা প্রত্যাশিতই ছিলো। কিন্তু এত বড় সাহস কি করে হলো কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের? নির্বাচন কমিশনার না হলে তিনি নাকি জ্ঞানেশ কুমারের আঙ্গুলটা ওখান থেকে কেটে বাদ দিয়ে আসতেন। এইরকম মন্তব্য করেছেন শ্রীরামপুরের সাংসদ। আর তা নিয়েই রীতিমত প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিরোধীরা।
এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন দিল্লিতে এই কল্যাণবাবু এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাথে নিয়ে ওই নির্বাচন কমিশনে যান এসআইআরের প্রতিবাদ করার জন্য, তখন সেখানে নাকি তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে। বাইরে বেরিয়ে তিনি সেই রকম অভিযোগ করেন। আর আজ সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সেদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কি দুর্ব্যবহার করেছেন, আপনারা ভাবতে পারবেন না। আঙুল তুলে কথা বলছেন। আরে তুমি নির্বাচন কমিশনার না হলে ওখানেই তোমার আঙ্গুলটা কেটে বাদ দিয়ে আসতাম। কাকে তুমি আঙুল দেখাচ্ছো? কাকে তুমি চোখ রাঙিয়ে কথা বলছো?” আর এখানেই বিরোধীদের পাল্টা যুক্তি, যা খুশি, যত হুমকি, যত কুৎসিত ভাষায় আক্রমণ করে যান কল্যাণবাবুরা। এতেই বোঝা যাচ্ছে যে, তারা কতটা আতঙ্কিত রয়েছে। মানুষ ধৈর্য ধরে রয়েছে, তৃণমূলকে বিদায় দেওয়ার জন্য। এই সমস্ত কিছু মানুষের মেমোরিতে সেভ করা থাকছে। ভোটের বাক্সে গোটা তৃণমূল দলটাকেই সাধারণ মানুষ বাদ দিয়ে দেবে বলেই দাবি বিরোধীদের।