প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে শহর সেজে উঠছে নতুন সাজে। তবে সেই সৌন্দর্যায়ন ঘিরেই এবার উৎসবের মরসুমে কলকাতায় ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর দুর্ঘটনা। গতকাল, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ (বুধবার) দুপুরে, কলকাতার অন্যতম ব্যস্ততম চিংড়িঘাটা উড়ালপুলে (Chingrighata Flyover) ঘটেছে এই বিপজ্জনক ঘটনা। এক পশলা বৃষ্টির পর ওই উড়ালপুলের ওপর পরপর অন্তত তিনটি মোটরসাইকেল হড়কে (Skid) গিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। একটি গাড়ির ড্যাশক্যামে (Dashcam) ধরা পড়া এই দুর্ঘটনার শিউরে ওঠা ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড হতেই মুহূর্তে তা দেশজুড়ে তুমুল ভাইরাল হয়ে যায়। দুর্ঘটনার খবর পৌঁছতেই রাজ্যের নতুন প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।

ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ও ড্যাশক্যাম ফুটেজে দেখা গেছে, চিংড়িঘাটা উড়ালপুলের একটি মৃদু বাঁক পার হওয়ার সময় অত্যন্ত সতর্কভাবে চালানো সত্ত্বেও ৩-৪ জন বাইক আরোহী বৃষ্টির জলে চাকা পিছলে পরপর রাস্তায় আছাড় খান। ভাগ্যবশত পেছন থেকে আসা গাড়িগুলি দ্রুত ব্রেক কষায় বড়সড় প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। জানা গেছে, দুর্গাপূজার প্রাক্কালে কলকাতার সৌন্দর্যায়ন অভিযানের অংশ হিসেবে এই উড়ালপুলের রাস্তাটিকে উজ্জ্বল রামধনু (VIBGYOR) রঙে রাঙিয়ে তোলা হয়েছিল। আর এই নতুন রঙের কারণেই অল্প বৃষ্টিতে রাস্তাটি স্কেটিং রিঙ্কের মতো পিচ্ছিল হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ।

দুর্ঘটনার ভিডিওটি ভাইরাল হতেই নবান্ন থেকে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর বার্তার পরই গত রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান কলকাতা পৌরসংস্থা, পিডব্লিউডি (PWD) এবং কেএমডিএ (KMDA)-র বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়াররা। মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্পষ্ট জানান, “মোটরসাইকেল পিছলে যাওয়ার পেছনে ঠিক কী কারণ রয়েছে, তা না দেখে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাবে না। রঙের কারণেই এই বিপত্তি কি না, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

বিরোধীদের একাংশ এবং পরিবেশবিদদের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, ট্রাফিক নিয়ম ও সড়ক সুরক্ষার তোয়াক্কা না করে সাধারণ অ্যান্টি-স্কিড থার্মোপ্লাস্টিক উপাদানের বদলে সস্তা এনামেল বা তৈলাক্ত তেল রং ব্যবহার করার কারণেই এই বিপত্তি ঘটেছে। এই বিতর্কের কড়া জবাব দিয়ে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট জানান, “রাস্তায় কোনও সাধারণ তেল রং ব্যবহার করা হয়নি। যে উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ‘অ্যান্টি-স্কিড’ এবং এই কাজের জন্য সরকারি তহবিলের কোনও টাকা খরচ করা হয়নি। সিএসআর (CSR) ফান্ডের টাকায় শহর সাজানোর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।” তবে সাধারণ মানুষের সুরক্ষাকেই প্রথম অগ্রাধিকার দেওয়া হবে জানিয়ে পুরমন্ত্রী আরও যোগ করেন, “কেন এমনটা ঘটল তা বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ার এবং পুলিশ খতিয়ে দেখছে। যদি পুলিশের মনে হয় যে এই রঙের উজ্জ্বলতার কারণে চালকদের চোখে কোনও অস্বস্তি হচ্ছে বা ব্রিজের গ্রিপ কমে যাচ্ছে, তবে অবিলম্বে এর বিকল্প ব্যবস্থা বা রঙের পরিবর্তন করা হবে।”

দুর্ঘটনা এড়াতে এবং উৎসবের মরসুমে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো ঝুঁকি নেয়নি প্রশাসন। গত রাতেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চিংড়িঘাটা উড়ালপুলের ওই বিপজ্জনক বাঁকে বিশেষ ফাইবার ব্লক বসানো হয়েছে, যাতে চাকার গ্রিপ মজবুত থাকে এবং আর কোনো গাড়ি পিছলে না যায়। আপাতত সেখানে পুলিশি নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।