প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
তারা বিভিন্ন জেলা প্রশাসনের দপ্তরটাকে নিজেদের পার্টি অফিস মনে করতে পারে। সেখানে মামারবাড়ির আবদার করতে পারে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন যে সাংবিধানিক একটা বডি, এটা হয়ত তৃণমূলের নেতা নেত্রীরা ভুলে গিয়েছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে অনেক কিছু দাবি জানানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেখানেও নির্বাচন কমিশন তাকে বুঝিয়ে দিয়েছে, এই সব অন্যায় আবদার চলবে না। পরবর্তীতে বাইরে বেরিয়ে এসে তাভগীকে অপমান করা হয়েছে,ভ ইত্যাদি ইত্যাদি অনেক কথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন। এখন তো দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে আক্রমণ করা অপমান করা যেন তৃণমূলের চিরাচরিত স্বভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই পরিস্থিতিতে আজ সেই নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে সর্বদলীয় বৈঠকে আলোচনা করতে পৌঁছে গিয়েছিলেন তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সদস্যরাও কিন্তু সেখানে গিয়ে তারা বিভিন্ন বিষয়ে তাদের দাবির কথা জানালেও যে বিষয়ে যতটা কথা বলতে দেওয়া প্রয়োজন ঠিক ততটাই বলতে দিল নির্বাচন কমিশন। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে চিৎকার করা অসভ্যতা করা যে তারা বরদাস্ত করবে না, সেই কথাও তৃণমূলের প্রতিনিধি দলকে সেই বৈঠকে অন্তত স্পষ্ট ভাষায় বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাইরে বেরিয়ে এসে রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য যেভাবে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কথা বললেন, তাতে সকলেই বলছেন যে, নির্বাচন কমিশন এবার আচ্ছামত সবক শিখিয়ে দিয়েছে তৃণমূলের এই প্রতিনিধি দলকে।

এই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস মনে করে যে, নির্বাচন কমিশনের অফিসটাও যেন তাদের সম্পত্তি। তারা যেভাবে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আচরণ করে, সেই সমান আচরণ তারা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে করবেন, আর কমিশনের অফিসাররাও সেটা মেনে নেবেন। কিন্তু অতীতেও তৃণমূলের সর্বময় নেত্রীকে পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন বুঝিয়ে দিয়েছে, অন্যায় আবদার এখানে চলবে না। আর আজ কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে সর্বদলীয় বৈঠকে তৃণমূল প্রতিনিধি দল গিয়ে নিজেদের দাবি-দাওয়া জানানোর চেষ্টা হয়ত করেছেন। তবে সেখানে তারা চিৎকার চেঁচামেচি করে নিজেদের দাবি আদায়ের যতই কৌশল অবলম্বন করুক না কেন, তাদের পাল্টা জবাব দিয়ে দিয়েছেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনের জ্ঞানেশ কুমার। আর তাতেই রীতিমত যে রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমাদেবীর চরম গোঁসা হয়েছে, তা বোঝাই যাচ্ছে।

সূত্রের খবর, এদিন নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সর্বদলীয় বৈঠকের পরেই বাইরে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। আর সেখানেই তাকে ডোন্ট শাউট বলা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “আমি মহিলা, আমাকে বলছেন ডোন্ট সাউট। মহিলাদের প্রতি এদের কোনো শ্রদ্ধা নেই। তাই মহিলাদের নামও কেটে দিচ্ছেন। আমার নাম না থাকলে সেটা প্রমাণ করার দায়িত্ব তো আপনার। কেন আমাকে লাইনে দাঁড়াতে হবে? মহিলাদের ওপর চেঁচানোটা আপনাদের কাজ নয়।”