প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
রাজনীতিতে যাকে বলে ‘মাস্টারস্ট্রোক’, উত্তর কলকাতায় ঠিক সেই চালটাই চেলে দিল ভারতীয় জনতা পার্টি। জল্পনার অবসান ঘটিয়ে চৌরঙ্গী বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হিসেবে সন্তোষ পাঠকের নাম ঘোষণা করল গেরুয়া শিবির। মাত্র কয়েকদিন আগেই পদ্ম পতাকা হাতে নেওয়া এই পোড়খাওয়া ও লড়াকু নেতাকে ময়দানে নামিয়ে কার্যত তৃণমূলের সাজানো ছক তছনছ করে দিল বিজেপি। রাজনৈতিক মহলের মতে, সন্তোষ পাঠকের মতো ‘হেভিওয়েট’ কাঁটা এখন শাসক শিবিরের গলার হাড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সন্তোষ পাঠক কোনো ড্রয়িং রুমের নেতা নন। কলকাতা পুরসভার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে তিনি টানা চারবারের অপরাজিত কাউন্সিলর। যে সময় তৃণমূলের প্রবল ঝড়ে বড় বড় রথী-মহারথীরা খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছেন, তখনও নিজের গড় আগলে রেখেছিলেন এই ‘লৌহপুরুষ’। তাঁর সবথেকে বড় শক্তি হলো তাঁর ‘ক্লিন ইমেজ’ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ। দুর্নীতির কোনো দাগ নেই, নেই কোনো অহংকার— আর এই মাটির মানুষের ভাবমূর্তিই এখন বড়বাজার থেকে চৌরঙ্গীর অলিতে-গলিতে তৃণমূলের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
সন্তোষ পাঠকের প্রার্থীপদ ঘোষণা হতেই চৌরঙ্গীর রাজনৈতিক সমীকরণ ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেছে। কারণ, সন্তোষের নিজস্ব এক বিশাল ভোটব্যাঙ্ক রয়েছে যা দলমতের ঊর্ধ্বে। এই ভোট সরাসরি বিজেপির ঝুলিতে গেলে শাসক দলের জেতা কঠিন হয়ে পড়বে। উত্তর ও মধ্য কলকাতার হিন্দিভাষী ভোটারদের ওপর সন্তোষের প্রশ্নাতীত প্রভাব রয়েছে। চার দশকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই নেতা বিজেপিতে আসায় গেরুয়া শিবিরের নিচুতলার সংগঠন এক ধাক্কায় অনেকটা শক্তিশালী হয়ে গেল।
এলাকার চায়ের দোকানে এখন একটাই গুঞ্জন— বিজেপি এবার আর বাইরে থেকে কাউকে আনেনি, বরং ‘চৌকা-চৌকা’ গোল দিতে কলকাতার ঘরের ছেলেকেই নামিয়েছে। সন্তোষ পাঠকের এই এন্ট্রি প্রমাণ করে যে, বিজেপি এবার আর কেবল হাওয়ায় ভাসছে না, বরং তৃণমূলকে তাদের নিজেদের মাঠেই কড়া টক্কর দিতে প্রস্তুত।
সব মিলিয়ে, সন্তোষ পাঠককে প্রার্থী করে বিজেপি কেবল লড়াই কঠিন করেনি, বরং তৃণমূলকে রক্ষণাত্মক হতে বাধ্য করেছে। শাসক দলের হেভিওয়েট প্রার্থীদের জন্য এই ‘লড়াকু সৈনিক’ যে এক কঠিন পরীক্ষা নিতে চলেছেন, তা এখন দিনের আলোর মত পরিষ্কার। আপাতত উত্তর কলকাতার রাজপথে একটাই প্রশ্ন— সন্তোষের এই ‘গেরুয়া ঝড়ে’ কি ঘাসফুল শিবিরের ভিত টলে যাবে?