প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলার রাজনীতিতে কি তবে এবার সব হিসেব উল্টে যেতে চলেছে? আদর্শের লড়াই কি এখন শুধুমাত্র দেওয়ালে সীমাবদ্ধ? গতকাল, অর্থাৎ ৬ এপ্রিল চুঁচুড়ায় বিজেপির রোড শোর এক দৃশ্য ঘিরে এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। যে নাম শুনলে একসময় বিরোধীদের বুক কাঁপত, সেই ঘরের ছেলেকেই দেখা গেল গেরুয়া শিবিরের মঞ্চে। শুধু দেখাই গেল না, তাঁর গলায় শোনা গেল এমন এক স্লোগান যা শুনে হতবাক খোদ বাম কর্মীরাও।ঠিক কী ঘটেছে?
সোমবার চুঁচুড়ার বিজেপি প্রার্থী সুবীর নাগের সমর্থনে আয়োজিত এক কর্মসূচিতে আচমকাই উপস্থিত হন আরামবাগের প্রাক্তন দাপুটে সিপিএম সাংসদ প্রয়াত অনিল বসুর পুত্র সৌম্য বসু। দীর্ঘ সময় বাম ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা সৌম্যর বিজেপির মঞ্চে উপস্থিতিই ছিল বড় চমক। কিন্তু আসল নাটক শুরু হয় এরপরগ। বিজেপির রোড শো চলার সময় জনসমক্ষে সৌম্য বসুকে বেশ কয়েকবার ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে শোনা যায়।
প্রাক্তন সাংসদ অনিল বসু ছিলেন লাল দুর্গের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। কিন্তু তাঁর ছেলের মুখে রাম-নাম কেন? এই প্রশ্নের উত্তরে সৌম্য বসু সংবাদমাধ্যমকে স্পষ্ট জানান, “আগেকার বামপন্থা আর এখনকার বামপন্থার মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ। আমি আর এই পুরনো আদর্শে বিশ্বাস রাখতে পারছি না।” তিনি আরও যোগ করেন যে, দেশভক্তি এবং উন্নয়নের স্বার্থেই তিনি আজ বিজেপির পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর মতে, বাবার রাজনৈতিক পরিচয় আর ছেলের ব্যক্তিগত পছন্দ আলাদা হতেই পারে।
সৌম্য বসুর এই ভোলবদলকে বিজেপি নেতৃত্ব ‘সুস্থ রাজনীতির দিশা’ হিসেবে দেখছে। প্রার্থী সুবীর নাগ তাঁকে নিজের ছোট ভাইয়ের মত স্নেহ করেন বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে, এই ঘটনা নিয়ে বাম শিবিরে তীব্র অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ঠিক মুখে একজন হেভিওয়েট বাম পরিবারের সদস্যের এভাবে গেরুয়া মন্ত্রে দীক্ষিত হওয়া বা তাঁদের সমর্থনে স্লোগান দেওয়া বাংলার বুথ স্তরের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সব মিলিয়ে, আরামবাগের সেই ‘লাল দুর্গ’-এর উত্তরাধিকারী কি তবে পাকাপাকিভাবে পদ্ম শিবিরের সৈনিক হয়ে উঠলেন? চুঁচুড়ার এই সভা কি আগামীর বড় কোনো পরিবর্তনের ট্রেলার? উত্তর দেবে সময়।