প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিধানসভায় বিধায়কদের সই জাল করার মামলার তদন্তে আজ এক বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি। আজ বিকেলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের ৩০ বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়ি সংলগ্ন কার্যালয়ে তল্লাশিতে পৌঁছায় সিআইডি-র একটি টিম। আর এই অভিযানকে কেন্দ্র করেই এবার শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। সিআইডি-র এই পদক্ষেপের পেছনে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর হাত রয়েছে বলে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী শিবিরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
অভিযান চলাকালীন তড়িঘড়ি কালীঘাটে পৌঁছান বিরোধী শিবিরের প্রবীণ আইনজীবী-সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সিআইডি কর্মকর্তাদের তদন্ত প্রক্রিয়া চলাকালীনই, সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, এই তল্লাশির পেছনে মূল মাথা হলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, শুভেন্দু অধিকারী রাজনৈতিকভাবে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে উঠেছেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে ইচ্ছাকৃতভাবে সিআইডি-কে ব্যবহার করছেন।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অভিযোগকে অবশ্য বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিতে নারাজ গেরুয়া শিবির। বিজেপির পক্ষ থেকে পাল্টা দাবি করা হয়েছে, বিধানসভার মতো পবিত্র জায়গায় বিধায়কদের সই জাল করার মতো গুরুতর অপরাধের তদন্তে আইন নিজের পথেই চলছে। সিআইডি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তাদের তদন্ত প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। সেখানে শুভেন্দু অধিকারীর নাম জড়ানো আসলে তদন্ত থেকে নজর ঘোরানোর একটি রাজনৈতিক চেষ্টা মাত্র।
রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে খোদ রাজ্যের এজেন্সির এই হানা রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল। একদিকে বিরোধী শিবির যখন একে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে সরব হয়েছে, অন্যদিকে শাসক ও পদ্ম শিবির একে আইনের স্বাভাবিক শাসন বলে উল্লেখ করছে। এই জালিয়াতি মামলার তদন্ত আগামীদিনে কোন মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।