প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিজেপি শাসিত রাজস্থানে ‘স্কুল ঠিক করো’ (School Thik Karo) অভিযানে গিয়ে তীব্র উত্তেজনা ও নজিরবিহীন সংঘাতের মুখে পড়লেন ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) জাতীয় মুখপাত্র তথা সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা। জয়পুরের রামপুরা-কনওয়ারপুরা গ্রামের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করতে যাওয়ার সময় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে এই হামলার দায় সরাসরি স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের ওপর চাপানো হলেও, স্থানীয় গ্রামবাসীদের একাংশ আবার সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি তুলেছেন। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজস্থানের শিক্ষা পরিকাঠামো এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র চাপানউতোর তৈরি হয়েছে।
আশুতোষ রাঙ্কার দাবি, ওই বিদ্যালয়টির মূল ভবনটি বিপজ্জনক ঘোষিত হওয়ায় দীর্ঘ দিন ধরে সেটি একটি মহিষের খামারে বা গোয়ালে (Buffalo Shed) চালানো হচ্ছে। গ্রামবাসীদের আমন্ত্রণে সেই বেহাল দশা খতিয়ে দেখতে এবং সোশ্যাল অডিট করতে তাঁরা সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু সিজেপি (CJP) প্রতিনিধিরা সেখানে পৌঁছানোমাত্রই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাঙ্কার অভিযোগ, লাঠি, পাথর ও লাথি-ঘুষি নিয়ে একদল দুষ্কৃতী তাঁদের ওপর চড়াও হয়, গাড়ির কাচ ভেঙে দেওয়া হয়, মোবাইল ফোন ভাঙচুর করা হয় এবং তাঁর নিজের জামা ছিঁড়ে দেওয়া হয়। এমনকি দলের এক সদস্যের হাত ভেঙে গিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ঘটনার পর সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দিপকে রাজস্থান পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে সোশ্যালে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।
এই ঘটনার পর রাজস্থানের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী মদন দিলাওয়ারকে সরাসরি কাঠগড়ায় তুলে এক বিস্ফোরক বয়ান জারি করেছেন আশুতোষ রাঙ্কা। রাঙ্কা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন— “আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই হামলায় জড়িত দোষীদের গ্রেফতার করতে হবে এবং বহিরাগতদের স্কুল পরিদর্শনে নিষেধাজ্ঞা জারির যে বিতর্কিত নির্দেশিকা শিক্ষা দফতর এনেছে, তা প্রত্যাহার করতে হবে।” এই সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তাঁরা রাজ্যজুড়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলবেন এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানাবেন। সংবাদমাধ্যমের কাছে রাঙ্কা অনুরোধ করেন, যেন এই ঘটনার জন্য সাধারণ গ্রামবাসীদের দোষারোপ না করা হয়, কারণ বহিরাগত রাজনৈতিক গুন্ডারাই এই হামলা চালিয়েছে।
সিজেপি নেতৃত্বের এই সমস্ত অভিযোগ এবং হুঁশিয়ারিকে এক ফুঁৎকারে উড়িয়ে দিয়েছেন রাজস্থানের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী মদন দিলাওয়ার। পালটা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি স্পষ্ট বলেন— “বহিরাগত কিছু রাজনৈতিক উপাদান স্কুলের পরিবেশ নষ্ট করতে গ্রামে ঢুকেছিল। গ্রামবাসীরা নিজেরাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে এসে নিজেদের স্কুলকে এই বহিরাগতদের হাত থেকে সুরক্ষিত করেছেন। আমি ওই গ্রামবাসীদের এই সাহসী পদক্ষেপের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।”
স্থানীয় গ্রামবাসীদের একাংশের দাবি, সিজেপি প্রতিনিধিরা স্কুলের প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন এবং বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক জলঘোলা করার চেষ্টা হচ্ছিল। গ্রামবাসীদের বক্তব্য, স্কুল মেরামতের জন্য ইতিমধ্যেই প্রশাসন থেকে ১২ লক্ষ টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই সেই কাজ করতে সক্ষম, তাই তাঁরা কোনো রাজনৈতিক রঙ লাগাতে চাননি। এই অনুমতিহীন প্রবেশ ও ভিডিওগ্রাফি নিয়েই দু-পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও বচসা শুরু হয়। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে রাজস্থান পুলিশ।