প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একের পর এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে চমক দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার কলকাতার রাজপথে যা ঘটল, তা এক কথায় নজিরবিহীন। চিনার পার্ক থেকে শিয়ালদা আসার পথে ভিআইপি রোডের একটি ব্যস্ত ক্রসিংয়ে লাল সিগন্যাল দেখে আচমকাই দাঁড়িয়ে পড়ে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়। ট্রাফিক পুলিশের বিশেষ সুবিধা বা কোনো ‘গ্রিন করিডোর’ না নিয়ে, সাধারণ মানুষের মতোই নিয়ম মেনে পুরো ৫৬ সেকেন্ড ঠায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করলেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। মুখ্যমন্ত্রীর এই সাধারণ মানুষের প্রতি দরদ এবং আইনের প্রতি চরম শ্রদ্ধাবোধ দেখে ধন্য ধন্য করছেন আপামর সাধারণ নাগরিক।

রাজনৈতিক মহলের মতে, বাংলায় দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে যে ‘ভিআইপি সংস্কৃতির’ দাপট সাধারণ মানুষকে রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামে দাঁড় করিয়ে রাখত, শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর তার অবসান ঘটতে চলেছে। তিনি পুলিশ প্রশাসনকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ের জন্য সাধারণ মানুষের যেন কোনো ভোগান্তি না হয়। চিনার পার্কের এই ৫৬ সেকেন্ডের অপেক্ষা আসলে কোনো সাময়িক চমক নয়, বরং বাংলায় আইনের শাসন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার এক জলজ্যান্ত প্রমাণ। একজন সাধারণ নাগরিকের মতোই ট্রাফিক আইনকে মর্যাদা দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিলেন—আইন সবার জন্য সমান।

ভিআইপি রোডের এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই সাধারণ মানুষের প্রশংসার ঝড় উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অতীতে যেখানে ভিআইপি কনভয় যাওয়ার নামে রাস্তা স্তব্ধ করে দেওয়া হতো, সেখানে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর এই সৌজন্য ও জনদরদী মনোভাব সত্যিই প্রশংসনীয়। বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী দলনেতা হিসেবে দীর্ঘদিন মানুষের পাশে থাকা শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হয়েও নিজের সেই ‘মাটির মানুষ’ ইমেজ ধরে রেখেছেন। বিরোধীরা এই ঘটনা নিয়ে নানাবিধ রাজনৈতিক জলঘোলা করার চেষ্টা করলেও, আমজনতার স্বতঃস্ফূর্ত করতালিতে সেই সমস্ত সমালোচনা ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে।

কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের একাংশও মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, রাজ্যের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদাধিকারী নিজে ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে সাধারণের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় ট্রাফিক কর্মীদের মনোবল অনেক বেড়েছে। স্রেফ মুখের কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে ভিআইপি সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বাংলায় এক নতুন যুগের সূচনা করলেন বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।