প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্তির পর থেকেই সরকারি কাজে স্বচ্ছতা ও গতি ফেরাতে চূড়ান্ত কড়া অবস্থান নিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার তাঁর সরাসরি নজরে রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর। গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পের মন্থর গতি এবং প্রশাসনিক ঢিলেমি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশের পর, এবার আর দূর থেকে নজরদারি নয়, সরাসরি ময়দানে নামছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামীকাল, ৪ নভেম্বর ২০২৬ (বুধবার) সকাল ১১:০০ থেকে ১১:৩০ মিনিটের মধ্যে সল্টলেকের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের সদর কার্যালয়ে এক জরুরি পর্যালোচনা বৈঠকে যোগ দিতে চলেছেন তিনি। রাজ্য সচিবালয় সূত্রের খবর, এই মেগা বৈঠকে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার (BDO)-দের সরাসরি তলব করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এবং পঞ্চায়েত প্রতিমন্ত্রী শান্তনু প্রামাণিক।

চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর, গ্রামীণ এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আদলে রাজ্যে চালু হয়েছে ১২৫ দিনের বিশেষ গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প (VG-RAM-G)। কিন্তু বিগত কিছুদিন ধরে মুখ্যমন্ত্রী দফতরে (CMO) জেলা ও পঞ্চায়েত স্তর থেকে লাগাতার অভিযোগ আসছিল যে, বহু ব্লকে এই প্রকল্পের কাজ চরম ধীর গতিতে চলছে। গত সপ্তাহেই রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ সচিবদের নিয়ে নবান্নে একটি বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে গ্রামীণ কর্মসংস্থানের এই মন্থর গতি নিয়ে প্রকাশ্যেই তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, সরকারি প্রকল্প রূপায়ণে কোনও রকম অনীহা বা ফাঁকিবাজি বরদাস্ত করা হবে না। দায়িত্ব পালনে অবহেলা দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট বিডিও-দের বদলির মতো কড়া বিভাগীয় পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল। গত সপ্তাহের সেই কড়া বার্তার পর পরিস্থিতির কতখানি বদল ঘটেছে, তা সরেজমিনে যাচাই করতেই এবার নিজেই রাশ টানছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

বুধবারের এই বৈঠকে কোনো রকম ফাইল চালাচালি নয়, বরং প্রতিটি জেলার রিপোর্ট কার্ড ধরে ধরে নিখুঁতভাবে খতিয়ে দেখবেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলাভিত্তিক প্রকল্পের অগ্রগতি কতটা হলো, কোন কোন ব্লকে কাজ আটকে রয়েছে এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা কেন পূরণ করা যাচ্ছে না— এই প্রতিটি খুঁটিনাটি প্রশ্নের জবাব সরাসরি উপস্থিত বিডিও-দের থেকেই তলব করা হবে। গ্রামীণ এলাকার মানুষের কাছে প্রকল্পের সুফল দ্রুত পৌঁছে দিতে প্রশাসন যে কোনো রকম আপস করবে না, মুখ্যমন্ত্রীর এই সরাসরি দফতর পরিদর্শনের সিদ্ধান্তেই তা স্পষ্ট।