প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিগত তৃণমূল জমানার প্রাতিষ্ঠানিক লুটরাজ এবং মাফিয়ারাজের বিরুদ্ধে ফলতার মাটি থেকে সবচেয়ে তীব্র ও ঝাঁঝালো আক্রমণ শানালেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ২০২৬ সালের ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর ফলতার উপচে পড়া জনসমাবেশ থেকে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—বিগত সাবেক সরকারের আমলে গরিবের হকের টাকা যারা লুটে খেয়েছে, তাদের কাউকেই রেহাই দেবে না বর্তমান বিজেপি সরকার।ফলতার বুক থেকে দুর্নীতিবাজ এবং কাটমানিখোর মাফিয়াদের সমূলে উপড়ে ফেলার গর্জন তুলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আজ বলেন, “আমফানের ত্রাণে যে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে, তার সম্পূর্ণ চোর-তালিকা আজ আমার হাতে আছে। এই এলাকায় প্রত্যেকটি চুরির ক্ষেত্রে সশরীরে গিয়ে খাঁটি যাচাই করা হবে।”

২০২০ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় আমফানের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী আজ সাবেক শাসকদল তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, দুর্যোগে ঘরহারা সর্বস্বান্ত মানুষদের ঘর মেরামতির জন্য কেন্দ্রের মোদী সরকার ২০ হাজার টাকা করে পাঠিয়েছিল। কিন্তু সাবেক তৃণমূল প্রশাসনের কাটমানিখোর নেতারা সেই টাকাও গরিবের অ্যাকাউন্টে পৌঁছাতে দেয়নি, একই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ৪২ বার পর্যন্ত টাকা তুলে নিজেদের পকেট ভরেছে। মুখ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি, “যাঁরা বঞ্চিত হয়েছেন, তাঁরা সবাই যেন টাকা পান—সেটা এই নতুন সরকার সুনিশ্চিত করবে।” শুধু আমফান নয়, ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে প্রায় ৮ হাজার ইউনিটের ৬০ হাজার টাকা করে কারা তুলে নিজেদের পকেটে পুরেছে, তাদের নামও ডায়েরিতে নথিভুক্ত আছে এবং কড়ায়-গণ্ডায় তার হিসাব বুঝে নেওয়া হবে।

সম্প্রতি ফলতার প্রাক্তন তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খানের গ্রেফতারির পর থানায় হামলা এবং অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টাকে কেন্দ্র করে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এক মাফিয়ার স্ত্রীর নেতৃত্বে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনাকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ’ বলে আখ্যা দিয়ে তিনি জেলা পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন—ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে এমন শাস্তি দিতে হবে যাতে তারা নিজেদের বাড়িতেও শান্তিতে ঘুমাতে না পারে। প্রয়োজনে অপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন—”আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের লক্ষ্য।” ফলতায় আর কোনো গুন্ডামি, কাটমানির লুটপাট কিংবা জঙ্গিপনা বরদাস্ত করবে না বর্তমান বিজেপি সরকার।