প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ইতিহাসে আজ এক স্বর্ণাক্ষরে লেখা দিন। স্রেফ এসি ঘরে বসে ফাইল সই করার চেনা ‘আমলাতান্ত্রিক’ আভিজাত্য ঝেড়ে ফেলে, মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পর থেকেই রাজধর্ম পালনে সোজা সাধারণ মানুষের দুয়ারে নেমে পড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আজ, ২১ মে ২০২৬, বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গের দুই প্রধান কেন্দ্র—হাওড়া এবং দুর্গাপুরে পর পর যেভাবে তিনি ঝোড়ো গতিতে মেগা প্রশাসনিক বৈঠক সম্পন্ন করলেন, তা দেখে একবাক্যে সকলেই বলছেন—’মুখ্যমন্ত্রী হোক তো এমনই!’ লোকদেখানো রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে, নিখাদ কাজের মানসিকতা নিয়ে তাঁর এই পথ চলা আজ প্রশংসা কুড়াচ্ছে আপামর জনসাধারণের।
আজ সকালে হাওড়া জেলাশাসকের দফতরে শীর্ষ প্রশাসনিক ও পুলিশ কর্তাদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দীর্ঘ বছর ধরে হাওড়াবাসী নিজস্ব পুরবোর্ড থেকে বঞ্চিত। আমলাদের দিয়ে পুরসভা চালানোর চেনা ছক ভেঙে মুখ্যমন্ত্রী আজ স্পষ্ট ডেডলাইন দিয়েছেন—আগামী ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে হাওড়া এবং বালি পৌরসভায় নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার এই সৎ মানসিকতা আজ সব মহলে প্রশংসিত। হাওড়ার যানজট, জলকষ্ট এবং নিকাশি সমস্যার স্থায়ী সমাধানে তিনি যেভাবে একটি বিশেষ কো-অর্ডিনেশন কমিটি গড়ে দ্রুত রূপায়ণের নির্দেশ দিয়েছেন, তা তাঁর বাস্তবমুখী দূরদর্শিতারই প্রমাণ।
হাওড়ার পর মুখ্যমন্ত্রী সোজা পৌঁছান দুর্গাপুরে, যেখানে দক্ষিণবঙ্গের ৫টি জেলার (পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়া) শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে মেগা বৈঠক করেন তিনি। এই বৈঠকটি বাংলার প্রশাসনিক সংস্কৃতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর “জ্বালানি সাশ্রয় ও মিতব্যয়িতা” এবং ভিআইপি কালচার বিলোপের আদর্শকে সামনে রেখে আজ এক ঐতিহাসিক নজির গড়ল শুভেন্দু সরকার। সরকারি কোষাগারের অপচয় রুখতে বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার জেলাশাসক, বিডিও এবং আধিকারিকরা নিজেদের বিলাসবহুল সরকারি গাড়ি ছেড়ে দুটি সাধারণ বাসে চেপে একসাথে দুর্গাপুরের বৈঠকে যোগ দিতে আসেন। আমলাতন্ত্রের এই সরলীকরণ ও সাধুতা নতুন সরকারের এক বিশাল নৈতিক জয়।
বালি, কয়লা বা পাথর মাফিয়াদের দাপট রুখতে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আইন নিজের পথে চলবে। কোনো রকম বেআইনি কাজ বরদাস্ত করা হবে না। এই কড়া বার্তা রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর সাধারণ মানুষের ভরসা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আজ প্রমাণ করে দিলেন তিনি শুধু একটি দলের নন, তিনি গোটা রাজ্যের অভিভাবক। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এখন থেকে সমস্ত প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী দলের বিধায়ক ও সমস্ত জনপ্রতিনিধিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হবে। রাজনীতির সংকীর্ণ রঙ ভুলে, সমস্ত দলের প্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে রাজ্যের উন্নয়ন করার এই উদার মানসিকতা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিরল এবং অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।
একদিকে আইনি নিয়মনীতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের প্রতি অকৃত্রিম দায়বদ্ধতা—এই দুইয়ের মেলবন্ধনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যেভাবে নিজের নতুন ইনিংস শুরু করেছেন, তা রাজ্যের প্রতিটি নাগরিকের মনে এক নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে। এটি শুধু একটি সরকারের পরিবর্তন নয়, এটি বাংলায় প্রকৃত সুশাসনের পথ চলা।