প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-উপনির্বাচনের দিন সকাল থেকেই মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে পুলিশের সঙ্গে তুমুল ঝামেলা ও উত্তেজনার জেরে অবশেষে গ্রেফতার হলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) প্রধান তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবির। আর তাঁর এই গ্রেফতারি নিয়ে ভোট বুথে দাঁড়িয়েই অত্যন্ত কড়া ও তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, আইন সবার জন্য সমান এবং নির্বাচনের কড়া বিধিনিষেধ ভাঙলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না। আজ মঙ্গলবার সকালে নন্দীগ্রামের নন্দনায়কবাড বুথে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে যান মুখ্যমন্ত্রী। ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রেজিনগরের পরিস্থিতি এবং হুমায়ুন কবিরের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে মুখ্যমন্ত্রী তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দেন।

হুমায়ুন কবিরের গ্রেফতারিকে সম্পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমি ওনাকে কোনো গুরুত্ব দিচ্ছি না। আপনারা (সাংবাদিকরা) কেন ওনাকে এত গুরুত্ব দিচ্ছেন? কেন উনি বুথের বাইরে যাচ্ছিলেন? পুলিশ এখানে একদম সঠিক পদক্ষেপ করেছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “আইন সবার জন্য সমান। ভোটকেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে ওইভাবে নিয়ম ভেঙে কেউ ঘোরাফেরা করতে পারেন না। নওদার বিধায়ক নির্বাচনী বিধিভঙ্গ করেছেন, তাই তিনি গ্রেফতার হয়েছেন।”

জনপ্রতিনিধিদের জন্য যে বিশেষ কোনো ছাড় নেই, তা নিজের উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আজ আমি নিজে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়েও কিন্তু ভোট চলাকালীন নিয়ম ভাঙতে পারি না। আজ যদি আমি নিজে নিয়ম ভাঙতাম, পুলিশ আমাকেও ধরে নিয়ে যেত বা ডিটেইন করতে পারতো। আমাদের মত বিধায়ক, সাংসদ, মন্ত্রীদের বা মুখ্যমন্ত্রীর সিকিউরিটি কভার থাকে ঠিকই, কিন্তু তার মানে এই নয় যে নিজের বুথের বাইরে গিয়ে ভোটপ্রক্রিয়ায় নাক গলানোর বা অশান্তি করার লাইসেন্স পেয়ে গিয়েছি। উনি নিজের বুথের বাইরে গিয়ে অযথা নাক গলানোর ও হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করছিলেন।”

আজ রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে হুমায়ুন কবিরের ছেলে গোলাম নবী আজাদ AJUP-এর টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সকাল থেকেই ভোটগ্রহণ শুরু হতেই রেজিনগরে পুলিশের বিরুদ্ধে ভোটারদের ভয় দেখানোর ও ভোট লুঠের অভিযোগ তুলে তুমুল বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন হুমায়ুন কবির। শুধু তাই নয়, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে লাঠি ও মুগুর নিয়ে প্রতিরোধ করার সরাসরি উস্কানিমূলক ডাক দেন তিনি। নির্বাচনী বিধি ভঙ্গ করে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা এবং জনতাকে উস্কে দেওয়ার অভিযোগে রেজিনগর থানার পুলিশ প্রথমে তাঁকে দলীয় কার্যালয় থেকে আটক করে এবং পরবর্তীতে তাঁকে আইন মোতাবেক গ্রেফতার করা হয়। সব মিলিয়ে, নির্বাচনের দিন আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে বর্তমান রাজ্য প্রশাসন যে অত্যন্ত কড়া মনোভাব নিচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আজকের এই বক্তব্য থেকেই তা অত্যন্ত স্পষ্ট।