প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে লাগাতার ভারী বৃষ্টির জেরে একাধিক জেলায় তৈরি হয়েছে বন্যা পরিস্থিতি। এই কঠিন বিপর্যয় মোকাবিলায় এবার সরাসরি ফ্রন্টলাইনে নেমে এলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আজ, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সল্টলেকের জলসম্পদ ভবনে (সেচ ভবন) পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকেই তিনি রাজ্যের সমস্ত দুর্যোগকবলিত জেলা প্রশাসনের সঙ্গে একটি জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠক করেন এবং পরিস্থিতির সার্বিক পর্যালোচনা করেন।

বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং সহায়তার ক্ষেত্রে কোনওরকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। বন্যা ও জলমগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত উদ্ধার করা এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ত্রাণ, উদ্ধারকাজ এবং অন্যান্য সরকারি সহায়তা যাতে দ্রুততম সময়ে মানুষের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলাগুলির সঙ্গে হাইভোল্টেজ ভার্চুয়াল বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জলসম্পদ ভবনের সেন্ট্রাল ফ্লাড কন্ট্রোল রুম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। কোথায় কী পরিমাণ বৃষ্টিপাত হচ্ছে, নদীর জলস্তর কতটা বেড়েছে এবং কোন কোন এলাকার বাঁধের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে—কন্ট্রোল রুমের আধুনিক সিস্টেমের মাধ্যমে সেই সমস্ত ডেটা নিজে দাঁড়িয়ে থেকে খতিয়ে দেখেন এবং পরিস্থিতির সার্বিক অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন।

বিপর্যয়ের এই আবহে রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করে নবান্ন ও মুখ্যমন্ত্রী কার্যালয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে দুর্গত প্রতিটি মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় থাকবে জলসম্পদ ভবনের এই বিশেষ কন্ট্রোল রুম।