প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে বাল্যবিবাহ সম্পূর্ণ নির্মূল করতে এবং মেয়েদের শিক্ষার অধিকার সুনিশ্চিত করতে কড়া অবস্থান নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মুর্শিদাবাদ জেলায় পরপর দু’টি নাবালিকা বিবাহ রুখে দিয়ে নজিরবিহীন তৎপরতা দেখাল প্রশাসন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মুর্শিদাবাদের চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট অফিসার (CDPO) এবং সামশেরগঞ্জ পুলিশ স্টেশনের দ্রুত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আজ নিজের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডল (X) পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে নাবালিকা বিবাহ বন্ধে তাঁর সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে।
মুখ্যমন্ত্রীর পোস্ট এবং পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ এবং ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ থানা এলাকায় দু’টি নাবালিকা বিবাহের গোপন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছিল। সামশেরগঞ্জের গাজিনগর এলাকায় এক ১৬ বছর বয়সী নাবালিকাকে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সামশেরগঞ্জ থানার police বাহিনী ও স্থানীয় সিডিপিও (CDPO)। বিয়ের মণ্ডপ থেকে নাবালিকাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। প্রথম ঘটনার রেশ কাটতেই, ঠিক তার পরের দিন অর্থাৎ ১০ সেপ্টেম্বর আরেকটি নাবালিকা বিবাহের চেষ্টা রুখে দেয় পুলিশ প্রশাসন।উদ্ধারের পর আইনি প্রোটোকল মেনে দুই নাবালিকাকেই সুরক্ষার স্বার্থে এবং মানসিক কাউন্সেলিংয়ের জন্য চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি (CWC)-র হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, এই বেআইনি বিয়ের আয়োজনের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে কড়া আইনি পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। গাজিনগরের ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে, যার মধ্যে বিয়ে পড়াতে আসা কাজী এবং মেয়ের বাবার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান সরকারের নীতি অনুযায়ী, নাবালিকা বিবাহে যুক্ত পুরোহিত, কাজী, মধ্যস্থতাকারী এবং বরের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সামাজিক মাধ্যমে করা পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, “আমাদের সরকার রাজ্যের কন্যাদের রক্ষা করতে, তাদের শিক্ষার অধিকার সুনিশ্চিত করতে এবং বাংলার মাটি থেকে বাল্যবিবাহ সম্পূর্ণ নির্মূল করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।” তিনি আরও জানান যে, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে রাজ্যের শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে প্রশাসন নিরলস কাজ করে চলেছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাজ্য জুড়ে বাল্যবিবাহ এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের মা হওয়ার ক্রমবর্ধমান সংখ্যা রুখতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা ও প্রয়োজনে পকসো (POCSO) আইনে স্বতঃপ্রণোদিত (Suo Motu) মামলা করার মতো কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছে নতুন বিজেপি সরকার। মুর্শিদাবাদের এই সাফল্য প্রশাসনের সেই সতর্ক নজরদারিরই এক বড় প্রমাণ।