প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পরেই রাজ্যের বিভিন্ন আন্তঃরাজ্য সীমান্তে নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করেছে প্রশাসন। সেই তৎপরতার জেরেই অসম-কোচবিহার সীমান্তে এসএসটি (Static Surveillance Team) নাকা চেকিং চলাকালীন দুই দফায় উদ্ধার হলো প্রায় ৩ লক্ষাধিক টাকা। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সীমান্ত এলাকায়। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর যৌথ অভিযানে ইতিমধ্যেই দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল কোচবিহারের অসম সীমান্তে একটি বিশেষ নাকা তল্লাশি কেন্দ্র বসিয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ। অসম থেকে কোচবিহারের দিকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাসকে সন্দেহভাজন মনে হওয়ায় সেটিকে আটকে তল্লাশি শুরু করেন জওয়ানরা। তল্লাশি চলাকালীন বাসের এক যাত্রীর ব্যাগ থেকে নগদ ১ লক্ষ ১৪ হাজার টাকা উদ্ধার হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ জানতে পেরেছে, ওই ব্যক্তির বাড়ি আলিপুরদুয়ার জেলায়। তবে এত পরিমাণ টাকা তিনি কোথা থেকে পেলেন বা কোথায় নিয়ে যাচ্ছিলেন, সে বিষয়ে কোনো বৈধ নথি তিনি দেখাতে পারেননি। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, বর্তমানে রাজ্যে আদর্শ আচরণবিধি জারি থাকায় নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি নগদ টাকা বহন করলে উপযুক্ত তথ্য বা প্রমাণ দেখানো বাধ্যতামূলক। তা না থাকায় পুলিশ তৎক্ষণাৎ ওই টাকা বাজেয়াপ্ত করে এবং ব্যক্তিকে আটক করে তদন্ত শুরু করে।

প্রথম ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আজ সকাল ৮টা নাগাদ সীমান্ত তল্লাশি কেন্দ্রে ফের বড় সাফল্য মেলে। পুলিশ সূত্রে খবর, অসমের দিক থেকে আসা একটি চারচাকার ছোট গাড়িকে থামিয়ে তল্লাশি শুরু করে এসএসটি। তল্লাশি চালানোর সময় গাড়ির ভেতর থেকে প্রায় ২ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়। এই গাড়িটিও অসম থেকে কোচবিহারের দিকেই আসছিল। উদ্ধার হওয়া এই টাকার উৎস নিয়েও ওই গাড়ির আরোহীরা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বলে জানা গিয়েছে।

বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধারের এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে প্রশাসন। নির্বাচনের সময় ভোটারদের প্রভাবিত করতে বা অন্য কোনো বেআইনি কাজে এই টাকা ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোচবিহার জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “সীমান্তবর্তী এলাকায় নাকা চেকিং আরও জোরদার করা হয়েছে। সন্দেহভাজন প্রতিটি গাড়ি ও যাত্রীকে তল্লাশি করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া টাকার উৎস এবং এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক বা অপরাধমূলক যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।”

পরপর দু’দফায় এই পরিমাণ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে এই ধরনের অভিযান আগামী দিনেও নিয়মিত চলবে। উদ্ধার হওয়া টাকা আপাতত ট্রেজারিতে জমা করার প্রক্রিয়া চলছে এবং আয়কর বিভাগকেও এই বিষয়ে অবগত করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। বর্তমানে আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা বড় কোনো চক্রের সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দল।