প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬-এর মহাযুদ্ধের দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোট মিটতে না মিটতেই বড়সড় ধামাকা! ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা, কিন্তু তার আগেই বঙ্গ রাজনীতিতে এমন এক ঘটনা ঘটে গেল যা সচরাচর দেখা যায় না। ভোট মেটার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের একটি ‘জরুরি’ ফোন কল কার্যত সব সমীকরণ ওলটপালট করে দিল। কমিশনারের নির্দেশে মাঝরাস্তাতেই বদলে গেল বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তর রুট।

কমিশন সূত্রে খবর, দ্বিতীয় দফার ভোট চলাকালীন দক্ষিণ ২৪ পরগনার বেশ কিছু এলাকায় ব্যাপক গোলমালের অভিযোগ জমা পড়েছিল। বিশেষ করে ডায়মন্ডহারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ফলতা, মগরাহাট ও সোনারপুর—এই তিন বিধানসভা এলাকা থেকে একের পর এক ছাপ্পা ভোট ও বুথ দখলের অভিযোগ জমা পড়ে কমিশনের দপ্তরে। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সরাসরি ফোনে বিশেষ সাধারণ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তকে এলাকায় যাওয়ার নির্দেশ দেন।

কমিশনারের নির্দেশ পাওয়া মাত্রই অ্যাকশন শুরু করেছেন সুব্রত গুপ্ত। জানা যাচ্ছে, তিনি অন্য সব ব্যস্ততা সরিয়ে রেখে অন্যান্য পর্যবেক্ষকদের নিয়ে সরাসরি অভিযোগ ওঠা এলাকাগুলোতে যাচ্ছেন। সাধারণত স্ক্রুটিনির কাজ স্থানীয় রিটার্নিং অফিসাররা করলেও, এবার খোদ বিশেষ পর্যবেক্ষক নিজে দাঁড়িয়ে থেকে স্ক্রুটিনি করবেন। অভিযোগ ওঠা বুথগুলোর নথিপত্র, সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রিসাইডিং অফিসারদের ডায়েরি নিজের হাতে পরীক্ষা করবেন তিনি।

রাজনৈতিক মহলের বড় অংশ মনে করছে, ফলাফল ঘোষণার আগে কমিশনের এই অতি-সক্রিয়তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদি স্ক্রুটিনিতে বড় কোনো কারচুপি ধরা পড়ে, তবে সংশ্লিষ্ট বুথগুলোতে পুনর্নির্বাচন (Re-poll) হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। আর তেমনটা হলে ৪ মে-র চূড়ান্ত ফলাফল কি পাল্টে যেতে পারে? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বত্র।

সুব্রত গুপ্তর এই ঝটিকা সফর ঘিরে এখন ডায়মন্ডহারবার চত্বরে টানটান উত্তেজনা। কমিশনের এই ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ শেষ পর্যন্ত কার জন্য স্বস্তির আর কার জন্য আশঙ্কার হবে, তা নিয়ে এখন তুঙ্গে জল্পনা। সব মিলিয়ে, ফল প্রকাশের আগেই নির্বাচন কমিশনের এই নজিরবিহীন চালে কার্যত ঘুম উড়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর।