প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে প্রথম দফার ভোটগ্রহণের আগে রণংদেহি মেজাজে নির্বাচন কমিশন। অশান্তি রুখতে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে এবার সরাসরি পুলিশি ব্যর্থতা ও দাগি দুষ্কৃতীদের তালিকা নিয়ে ময়দানে নামলেন খোদ পুলিশ অবজার্ভাররা। কমিশন সূত্রে চাঞ্চল্যকর তথ্য— প্রথম দফার ভোটের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েও এখনও জালের বাইরে রয়ে গিয়েছে অন্তত ২৯৪ জন দাগি দুষ্কৃতী। আর এই তথ্য সামনে আসতেই নবান্ন থেকে জেলা পুলিশ প্রশাসন, সর্বত্র পড়ে গিয়েছে শোরগোল।

নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ, যে ২৯৪ জন দাগি অপরাধীর নাম তালিকায় রয়েছে, তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। শুধু গ্রেফতারই নয়, যারা এলাকায় ভীতি প্রদর্শন করতে পারে বা অতীতে অশান্তির ইতিহাস রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন বা নিবর্তনমূলক আটক বিধি প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, পুলিশ অবজার্ভাররা জেলা পুলিশ সুপারদের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ভোট শুরুর ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা আগে যেন এই ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় থাকা কাউকেই বাইরে দেখা না যায়।

কমিশন এবার দায়বদ্ধতা সরাসরি ওসির (OC) ঘাড়ে চাপিয়েছে। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কোনও এলাকায় যদি ভোটের আগে বা ভোটের দিন বোমা উদ্ধার হয় কিংবা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দাপাদাপি চলে, তবে তার দায় সংশ্লিষ্ট থানার বড়বাবুকে নিতে হবে। কর্তব্যে গাফিলতি প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক ক্লোজ বা সাসপেনশনের মতো চরম পদক্ষেপও নিতে পারে কমিশন।

গোয়েন্দা রিপোর্টে আভাস মিলেছে, সীমান্ত সংলগ্ন জেলা এবং কিছু নির্দিষ্ট পকেটে বহিরাগত দুষ্কৃতীরা ডেরা বেঁধেছে। ভোটারদের প্রভাবিত করতে ও ভয় দেখাতে তারা সক্রিয় হতে পারে— এমন আশঙ্কার কথা মাথায় রেখেই পুলিশকে ‘ফ্রি হ্যান্ড’ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই কোচবিহার, মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার মত জেলাগুলো থেকে ১৩৫ জনের বেশি দাগি অপরাধীকে জালে তোলা হয়েছে। বাকি ২৯৪ জনের খোঁজে চলছে চিরুনি তল্লাশি।

কমিশনের এই কড়াকড়ির মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষের মনে আত্মবিশ্বাস জাগানো। কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ এবং নাকা চেকিংয়ের পাশাপাশি এই ‘টার্গেটেড অ্যারেস্ট’ রাজনৈতিক উত্তাপকে প্রশমিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের জন্য বার্তা একটাই— নির্ভয়ে বুথে আসুন, আপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন।