প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এতদিন ধরে নির্বাচন কমিশন অনেক ঢিলেঢালা মনোভাব সহ্য করেছে। কিন্তু এবার তারা অ্যাকশন নেওয়ার পথে। গতকালই একাধিক নির্দেশ অমান্য করার জন্য তড়িঘড়ি দিল্লিতে তলব করা হয়েছিল রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে। বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল সেই খবর দেখিয়েছে। তবে রাজ্যের মুখ্যসচিবকে নিয়ে কি সিদ্ধান্ত কমিশন নেবে, সেটা তাদের ব্যাপার। কিন্তু বিজেপির দাবি অন্য। এক্ষেত্রে তারা ফর্ম সেভেন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে যেভাবে বাধা পেয়েছেন, যেভাবে তাদের প্রচুর ফর্ম সেভেন পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তাদের কর্মীদের মারধর করা হয়েছে, সেই ব্যাপারে তারা কমিশনের পক্ষ থেকে চান কড়া অ্যাকশন। তাই মুখ্যসচিবকে দিল্লিতে কমিশন ডেকে পাঠানো ইস্যুতে মন্তব্য করতে গিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি।

এই রাজ্যে যেদিন থেকে এসআইআর শুরু হয়েছে, সেদিন থেকেই তাকে চূড়ান্তভাবে অসহযোগিতা করছে রাজ্য সরকার। বিভিন্ন সময় বিরোধী নেতারা দাবি করেছেন যে, এসআইআর প্রক্রিয়াকে বাধাদান করার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদালত পর্যন্ত ছুটে গিয়েছেন। কিন্তু সেখানেও যখন লাভের লাভ কিছু হয়নি। তখন নিজের প্রশাসনকে দিয়ে তিনি চূড়ান্ত অসহযোগিতা করার চেষ্টা করছেন। আর এবার সেই কারসাজি ধরে ফেলেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তাই এই রাজ্যের যিনি মুখ্যসচিব, সেই নন্দিনী চক্রবর্তীকে বেশ কিছু নির্দেশ অমান্য করার কারণে গতকাল দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। বেশ কিছুক্ষণ তার সঙ্গে কথা বলেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। আর তারপরেই সেই ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে নিজেদের দাবির কথা তুলে ধরলেন শমীক ভট্টাচার্য।

এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। আর সেখানেই তিনি বলেন, “কে দিল্লি যাবেন, কে মুম্বাই যাবেন, এই নিয়ে আমাদের জানার কিছু নেই। আমরা আমাদের অবস্থান নির্বাচন কমিশনের সামনে স্পষ্ট করেছি। পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে একটি নির্ভুল ভোটার তালিকা দেওয়ার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। তাদের চলার পথে যদি কেউ বাধা দিয়ে থাকে, তাহলে সেটাও ঠিকঠাক করে দেওয়ার দায়িত্ব তাদের। আমরা শুধু চাই, আমরা যে ফর্ম সেভেন জমা দিতে গিয়েছিলাম, যেগুলো বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, মারধর করা হয়েছে, ভুল তথ্য আপলোড করা হয়েছে, সেই ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন কি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। আমরা তার জন্য অপেক্ষা করছি।”