প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এসআইআর হওয়ার অনেক আগে থেকেই তার বিরোধিতা করতে শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বর্তমানে সেই এসআইআরের বিভিন্ন অভাব, অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ নির্বাচন কমিশন তাকে সময় দিয়েছিল। আর সেখানেই তিনি বেশ কিছু সাধারণ মানুষকে নিয়ে গিয়েছেন। যাদের মধ্যে এসআইআরের আতঙ্কে অনেকের মৃত্যু হয়েছে এবং অনেকের নাম ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর। আর তাদের নিয়ে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে এক ঘন্টার বেশি সময় বৈঠক করার পর বাইরে বেরিয়ে এসে যেন আরও রেগে ফায়ার হয়ে গেলেন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যার ফলে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, তাহলে কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনো কথাই পাত্তা পেল না নির্বাচন কমিশনের কাছে? আর সেই কারণেই কি আরও তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলেন তিনি?
আজ সকাল থেকেই সরগরম ছিলো জাতীয় রাজনীতি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাত সকালে বঙ্গভবনে পুলিশের সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি যাদের রাজ্য থেকে বঙ্গভবনে নিয়ে এসেছিলেন, তাদের সকলকে নিয়ে তিনি গায়ে কালো চাদর জড়িয়ে নির্বাচন কমিশনে পৌঁছে যান। অনেকেই ভেবেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী হয়ত নির্বাচন কমিশনে গিয়ে বড় কোনো দাবি আদায় করতে সক্ষম হবেন। কিন্তু বাইরে বেরিয়ে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সেই কমিশনের বিরুদ্ধে যেভাবে বিদ্রোহ ঘোষণা করে একাধিক মন্তব্য করলেন, তাতেই প্রশ্ন উঠছে যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনো কথাকেই হয়ত পাত্তা দেয়নি নির্বাচন কমিশন। আর সেই কারণেই তার রাগ আরও বেড়ে গিয়েছে। আর তাই তিনি নির্বাচন কমিশনকে যা ইচ্ছে তাই বলে আক্রমণ করতে শুরু করেছেন। কিন্তু ঠিক কি বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?
এদিন নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে এক ঘন্টার বেশি সময় বৈঠক করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। আর তারপরেই বাইরে বেরিয়ে নির্বাচন কমিশনকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি অনেকদিন দিল্লিতে রাজনীতি করেছি। মন্ত্রীও ছিলাম। কিন্তু এতদিনে এমন অহংকারী নির্বাচন কমিশন দেখিনি। নির্বাচন কমিশন বিজেপির ইশারায় কাজ করছে।” আর এখানেই বিজেপির ঘনিষ্ঠ মহলের পক্ষ থেকে পাল্টা বলা হচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রী বুঝতে পারছেন যে, এসআইআর যেভাবে হচ্ছে, তাতে তার দল এবার ক্ষমতায় টিকে থাকবে না। আর সেই কারণেই গোটা ব্যবস্থাকে ভণ্ডল করে দিতে তিনি ভেবেছিলেন, দিল্লিতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের চাপ দিয়ে তিনি তার মত করে গোটা ব্যবস্থাকে পরিচালিত করবেন। কিন্তু কমিশনের দরজাতে গিয়েও যখন লাভের লাভ কিছু হলো না, তখন বাইরে বেরিয়ে এসে নিজের রাগ সামলাতে না পেরে নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করে তিনি সংবিধানকেই অপমান করছেন বলেই দাবি পদ্ম শিবিরের ঘনিষ্ঠ মহলের।