প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ভারতের নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে এবার কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক ও চূড়ান্ত লড়াইয়ের ঘোষণা করল জাতীয় কংগ্রেস। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে অপসারণ এবং তাঁর কার্যকালে নেওয়া সমস্ত সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনার দাবিতে আজ, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দেশজুড়ে জেলাভিত্তিক তীব্র প্রতিবাদ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। কংগ্রেসের এই কর্মসূচির জেরে আজ সারা দেশের জেলা সদরগুলিতে ব্যাপক রাজনৈতিক উত্তেজনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রবিবার দলের সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কে সি বেণুগোপাল তাঁর অফিশিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে পোস্ট করে এই মেগা আন্দোলনের কথা ঘোষণা করেন। দেশব্যাপী এই আন্দোলনের রূপরেখা চূড়ান্ত করতে তিনি ইতিমধ্যেই দেশের ১০০০-এরও বেশি জেলা কংগ্রেস কমিটির (DCC) সভাপতিদের সঙ্গে একটি জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠক সম্পন্ন করেছেন। সেখান থেকেই সোমবার দেশজুড়ে পথে নামার চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে বেণুগোপাল তাঁর পোস্টে লিখেছেন, বর্তমান সিইসি জ্ঞানেশ কুমার দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ধ্বংস করছেন এবং তিনি মোদী-শাহ সরকারের স্বার্থ রক্ষার্থেই কাজ করে চলেছেন। নির্বাচন কমিশনের মতো সর্বোচ্চ নিরপেক্ষ সাংবিধানিক পদের অপব্যবহার করে এটি একটি সুপরিকল্পিত “ভোট চুরির পরিকল্পনা” (Grand Vote Chori plans) বলেও সরাসরি তোপ দেগেছেন কংগ্রেসের এই শীর্ষ নেতা।

কংগ্রেসের পক্ষ থেকে মূলত দুটি প্রধান দাবিকে সামনে রেখে এই আন্দোলন পরিচালিত হচ্ছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে অপসারণ।তাঁর তত্ত্বাবধানে বা তাঁর আমলে নেওয়া সমস্ত নির্বাচনী ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনা।বেণুগোপাল স্পষ্ট করে দিয়েছেন, দেশের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক কাঠামোকে রক্ষা করার জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি এবং অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। দেশের সাধারণ ভোটারদের এই আন্দোলনে শামিল করে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর তীব্র গণ-চাপ সৃষ্টি করাই এখন কংগ্রেসের মূল লক্ষ্য। দলের বর্ষীয়ান নেতৃত্ব থেকে শুরু করে একেবারে তৃণমূল স্তরের কর্মীরা আজ দেশের প্রতিটি জেলায় এই প্রতিবাদ বিক্ষোভে সামিল হচ্ছেন।