প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-একুশে জুলাইয়ের সকালে তপ্ত তিলোত্তমার রাজনীতি। কলকাতার বিড়লা তারামণ্ডলের পাশে যখন সাবেক শাসকদল তৃণমূলের মমতাপন্থী গোষ্ঠী এবং মেয়ো রোডে বিদ্রোহী ‘নব তৃণমূল’ শক্তিপ্রদর্শনে ব্যস্ত, ঠিক তখনই শহরের অন্য প্রান্তে শহিদ মিনার ময়দানে ক্রমশ বাড়ছে প্রদেশ কংগ্রেসের ‘শহিদ সমাবেশে’র ভিড়। তবে রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছে এই সভার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম বড়সড় সমাবেশের ডাক দিয়েছে হাত শিবির। আর সভার শুরুতেই শাসকদল বিজেপির বিরুদ্ধে রাজ্যজুড়ে নজিরবিহীন সন্ত্রাস, বাস ভাঙচুর ও কংগ্রেস কর্মীদের আটকে রাখার অভিযোগে সরব হলেন প্রদেশ নেতৃত্ব।
কংগ্রেস নেতৃত্বের অভিযোগ, শহিদ মিনারের সভায় যোগ দিতে আসার পথে রাজ্যের একাধিক জায়গায় তাঁদের কর্মীদের ওপর চড়াও হয়েছে বিজেপির আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। বহু জেলা থেকে কর্মীদের নিয়ে আসা বাসে ভাঙচুর চালানো হয়েছে এবং অনেক জায়গায় বাস আটকে কর্মীদের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং রেলস্টেশনে কংগ্রেস কর্মীদের ওপর সরাসরি হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে পদ্ম শিবিরের বিরুদ্ধে।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে কড়া সুর চড়িয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। তিনি স্পষ্ট ভাষায় পুলিশের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে বলেন, “রাজ্যের নতুন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই চরম অবনতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। পুলিশ প্রশাসন যেন অবিলম্বে এই ঘটনার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ও কড়া পদক্ষেপ করে।” ক্যানিংয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই জেলা রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
এদিকে সমস্ত বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করেই শহিদ মিনার চত্বরে কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের আনাগোনা ক্রমশ বাড়ছে। মাঠ এখনও পুরোপুরি না ভরলেও দুপুরের দিকে ভিড় আরও বাড়বে বলে আশাবাদী নেতৃত্ব। আজকের এই হাইপ্রোফাইল সমাবেশের মঞ্চে প্রদেশ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির (AICC) একাধিক হেভিওয়েট কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও হাজির হয়েছেন। মঞ্চে রয়েছেন দীপা দাশমুন্সি, ইমরান প্রতাপগরি, পবন খেরা এবং উদয়ভানু চিবের মতো জাতীয় স্তরের শীর্ষ মুখেরা। রাজনৈতিক মহলের মতে, বাংলায় নতুন বিজেপি সরকারের জমানায় কংগ্রেস যে নিজেদের জমি ছাড়তে রাজি নয়, দিল্লির হেভিওয়েট নেতাদের এই উপস্থিতি এবং শুভঙ্করের আক্রমণাত্মক সুর তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।