প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকারের আমলে দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে গঠিত প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিশনের (Institutional Corruption Prevention Commission) নজরে এবার সমবায় ঋণ কেলেঙ্কারি। হুগলির এক সমবায় সমিতি থেকে পদের প্রভাব খাটিয়ে নিয়ম-বহির্ভূতভাবে কোটি টাকার কাছাকাছি ঋণ নেওয়ার মারাত্মক অভিযোগে এবার বড়সড় তদন্তের ঘেরাটোপে এলেন রাজ্যের প্রাক্তন পরিবহণ মন্ত্রী তথা গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা স্নেহাশিস চক্রবর্তী। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বাধীন এই কমিশন ইতিমধ্যেই হুগলির জাঙ্গিপাড়ার ওই সমবায় সমিতিতে হানা দিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রাক্তন মন্ত্রীর তীব্র বিরোধিতা ও তাঁর গ্রেফতারির দাবিতে সরব হয়েছেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে হুগলির জাঙ্গিপাড়ার সিংটি গুটি আতরা বিলাসপুর কৃষি সমবায় সমিতি। সমবায়ের সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী, এই ধরনের ঋণ কেবলমাত্র স্থানীয় বাসিন্দা এবং প্রকৃত পেশায় কৃষকদের জন্যই বরাদ্দ করা যায়। কুণাল ঘোষের বিস্ফোরক অভিযোগ, স্নেহাশিস চক্রবর্তী নিজে কৃষক না হওয়া সত্ত্বেও মন্ত্রী থাকাকালীন পদের প্রভাব খাটিয়ে ওই সমবায় সমিতি থেকে নিজের নামে ৮৫ লক্ষ টাকা এবং এক নারী আত্মীয়ের নামে আরও ১০ লক্ষ টাকা অর্থাৎ মোট ৯৫ লক্ষ টাকার (যা বর্তমানে সুদে-আসলে প্রায় ১ কোটি টাকা) ঋণ মঞ্জুর করিয়েছিলেন। কুণাল ঘোষ প্রশ্ন তুলেছেন, “কৃষক না হয়েও উনি কীভাবে এই কৃষিঋণ পেলেন? সমবায়ের সাধারণ মানুষের টাকা আত্মসাতের দায়ে কর্মী ও ম্যানেজার গ্রেফতার হলে, মূল সুবিধাভোগী প্রাক্তন মন্ত্রী এখনও কেন বাইরে ঘুরছেন?” তিনি স্নেহাশিস চক্রবর্তীর অবিলম্বে গ্রেফতারির দাবি তুলেছেন।
তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন প্রাক্তন পরিবহণ মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী। তিনি এই ঘটনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তাঁর ‘চরিত্রহননের চেষ্টা’ বলে অভিহিত করেছেন।সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে স্নেহাশিস চক্রবর্তী জানান, “আমি সিংটি কৃষি সমবায় সমিতির একজন সাধারণ সদস্য মাত্র, কোনো চেয়ারম্যান নই। গ্রাহক হিসেবে ব্যাঙ্কের ভেতরের কোনও ম্যানেজমেন্টের অসঙ্গতি থাকলে তা আমার জানার কথা নয়। আমি সমবায় থেকে যা ঋণ নিয়েছিলাম, তা সুদ-সহ পুরোপুরি পরিশোধ করে দিয়েছি।” ইতিমধ্যেই এই আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে সিংটি সমবায় সমিতির ম্যানেজার স্বপন পাত্রসহ আরও এক কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, যাঁরা বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। তবে এবার জুডিশিয়াল কমিশন সরাসরি তদন্তের রাশ হাতে নেওয়ায় এবং সমস্ত নথি বাজেয়াপ্ত করায় প্রাক্তন মন্ত্রীর ওপর আইনি চাপ ও রাজনৈতিক অস্বস্তি বহুগুণ বাড়ল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।