প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
গতকাল গোটা দেশ একটি চিত্রনাট্য দেখেছে। যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের সওয়াল করেছেন। আর সেই বিষয়টিকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে অনেক বেশি প্রচার করতে শুরু করেছে তৃণমূলের নেতা কর্মীরা‌। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী থাকা সত্ত্বেও তিনি যেভাবে কোর্টে বলতে উঠেছিলেন এবং যেভাবে বিচারপতি জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তার আইনজীবী যথেষ্ট দক্ষ এবং তার পরেও তিনি বলতে শুরু করলেন, তা নিয়ে অনেকেই কটাক্ষ করছেন। সকলেই বলছেন, সব জায়গায় ক্রেডিট নেওয়ার চেষ্টা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সুপ্রিম কোর্টেও তিনি সেই চেষ্টাই করেছেন। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সুপ্রিম কোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য একাধিক ভুলভাল ইংরেজি নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন। আর এবার সেই বিষয়েই মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ।

গতকাল সকাল থেকেই সংবাদমাধ্যমের একটা অংশ এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ব্যাপক প্রচার করতে শুরু করেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছেন তিনি, নিজেই সওয়াল করবেন। এমনকি এমন ভাবে প্রচার করা হয়, যেন কোনো রাজনীতিবিদ এর আগে সুপ্রিম কোর্টে কোনোদিন গিয়ে নিজের কথা তুলে ধরেননি। বোঝানোর চেষ্টা হয় যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিহাস স্থাপন করছেন। শেষ পর্যন্ত সেই সওয়াল পর্ব শেষ হয়। কিন্তু দিনের শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে নিজেকে ফোকাসে আনা ছাড়া তেমন কিছুই লাভ করতে পারেননি, সেই সম্পর্কে নিশ্চিত বিশেষজ্ঞরা। আর সেই বিষয়েই এবার মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করলেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি।

এদিন এই ব্যাপারে দিলীপ ঘোষকে একটি প্রশ্ন করা হয়। আর সেই ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “মমতা ব্যানার্জি আজকে কোর্টে যাচ্ছেন। কিন্তু এটা যদি আগে করতেন, তাহলে পশ্চিমবঙ্গের কত পয়সা বাঁচতো! এই যে কপিল সিব্বল, অভিষেক মনু সিংভি এদেরকে কত কোটি টাকা দিয়ে দিলেন। উনি যদি নিজেই কোর্ট পড়ে দাঁড়িয়ে যেতেন, এমনিও হারছেন, উনিও হারছেন, কিন্তু আমাদের টাকাটা বেঁচে যেত। তবে উনি সেটা করলেন না। ওনাকে বারবার বিচারপতি বলছেন যে, আপনার উকিলরাই যথেষ্ট যোগ্য, তাদের কথা শুনি। কিন্তু উনি সেটা শুনবেন না। এত ড্রামা করার কি দরকার রয়েছে? পশ্চিমবঙ্গের যতটুকু মান সম্মান ছিল, সেটাও যমুনাতে ভাসিয়ে দিয়ে চলে এলেন।”