প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- বর্তমানে দিল্লিতে রয়েছেন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসআইআর ইস্যু থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছেন তিনি। লাগাতার বিভিন্ন চিত্রনাট্যের মধ্যে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমন একটি বিষয় প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন যে, তাকে দেখে বিজেপি নাকি ভয় পাচ্ছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যে ভারতীয় জনতা পার্টি বিন্দুমাত্র প্রশ্রয় দিতে চায় না, তা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। যার ফলে সেই ভাবে মাইলেজ পাচ্ছেন না এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। অন্তত বিশেষজ্ঞরা তেমনটাই বলছেন। আর গতকাল যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক করেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করেছেন, ঠিক তখনই পাল্টা রাতেই সেই দিল্লিতেই মেগা বৈঠক করলো বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিৎকার, চেঁচামেচিকে গুরুত্ব না দিয়ে তারা এখন নিজেদের ঘর বোঝাতে চাইছে। সংগঠনকে আরও মজবুত করতে চাইছে। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই গতকাল রাতে সুকান্ত মজুমদারের বাসভবনে হয়ে গেল গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে রয়েছেন। আর সেখানে তিনি বিভিন্ন রকম কর্মসূচি নিচ্ছেন। বারবার করে সোচ্চার হচ্ছেন। দেখানোর চেষ্টা করছেন যে, তার মত বিজেপি বিরোধী মুখ গোটা দেশে আর কেউ নেই। কিন্তু যে বিজেপির দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন তিনি, যে বিজেপিকে চাপে ফেলার চেষ্টা করছেন তিনি, সেই বিজেপি কার্যত তাকে পাত্তাই দিচ্ছে না। ইতিমধ্যেই তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে বিশেষজ্ঞদের কাছে। গতকাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন সাংবাদিক বৈঠক করে নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করছেন, ঠিক তার কিছু পরেই রাতে বাংলার বিজেপি সাংসদদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন।
সূত্রের খবর, গতকাল রাতে দিল্লিতে বাংলার বিজেপি সাংসদদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। যেখানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের বাসভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আর সেখানেই বাংলার বিজেপি সাংসদদের ভোটের আগে বেশ কিছু নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে বলে খবর। যার মধ্যে অন্যতম এসআইআর নিয়ে তৃণমূল যেভাবে প্রচার করছে, তাকে খন্ডন করে বিজেপির সমস্ত সাংসদদের রাস্তায় নামার নির্দেশ দিয়েছেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি। পাশাপাশি যে কেন্দ্রীয় বাজেট সম্প্রতি হয়েছে, তা নিয়েও তৃণমূলের পক্ষ থেকে নানা ভাবে কটাক্ষ করা হচ্ছে। তাই সেই বাজেটের সুফল মানুষের কাছে প্রচারের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও দলীয় সাংসদদের বার্তা দিয়েছেন নীতিন নবীন। অর্থাৎ দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা খুশি তাই করতেই পারেন। কিন্তু বাংলাকে টার্গেট করে বিজেপি যে লড়াইটা এবার লড়তে চাইছে, সেক্ষেত্রে তারা এবার নিজেদের ঘর গোছানোর দিকেই সব থেকে বেশি মনোযোগী হচ্ছে। তাই দিল্লিতে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সরকার বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই বিজেপি নিজেদের রণনীতি ঠিক করে বাংলা কি করে দখল করা যায়, তার জন্য বড় প্ল্যান সেই দিল্লি থেকেই ছকে নিলো বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।