প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার পর এবার সরাসরি ময়দানে নামছে নির্বাচন কমিশন। আজই রাজ্যে পা রাখছেন এ রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র ডেপুটি কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী। সঙ্গে আসছেন আরও দুই হাই-প্রোফাইল আধিকারিক। শুধু কলকাতা নয়, আজ উত্তরবঙ্গেও পৌঁছে যাচ্ছে কমিশনের আরও একটি বিশেষ টিম। ভোটের ঠিক কয়েকদিন আগে যখন রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে, তখন খোদ দিল্লি থেকে আসা এই বিশেষ টিমের তৎপরতা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শাসক-বিরোধী উভয় শিবিরে।
রাজনৈতিক মহলের ধারণা, রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করানোই এখন কমিশনের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। নির্বাচন অবাধ করার লক্ষ্যেই এই বিশেষ পর্যালোচনা সফর। ৩ দিনের এই ঝটিকা সফরে জ্ঞানেশ ভারতী মূলত রাজ্যের ভোট প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতিটি খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখবেন। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার মত গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোর প্রস্তুতি তিনি সশরীরে যাচাই করবেন।
সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, ৩ দিনের এই মেগা মিশনে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের রুদ্ধদ্বার বৈঠক হতে পারে। বিগত দিনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আর কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না দিল্লি। সামান্যতম গাফিলতি বা পক্ষপাতিত্বের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তক্ষণাৎ কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যে রাজ্যের শীর্ষ স্তরের পুলিশ প্রশাসনে একাধিক রদবদল ঘটিয়ে কমিশন বুঝিয়ে দিয়েছে— ভোটের মাঠে কোনো ধরণের অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না।
আজই উত্তরবঙ্গের বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছাবে কমিশনের আরেকটি টিম। তারা আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি ও কালিম্পং জেলার ভোট প্রস্তুতি খতিয়ে দেখবেন। উত্তরবঙ্গের সীমান্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি এবং ভোটারদের আস্থা ফেরাতে এরিয়া ডোমিনেশন নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করবে এই টিম।
মিশনে কী কী থাকছে? প্রতি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঠিক মোতায়েন এবং ভোটারদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। যে সমস্ত বুথে অশান্তির ইতিহাস আছে, সেখানে প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশেষ নজরদারি। প্রশাসনিক স্তরে কোনো ধরণের রাজনৈতিক চাপের প্রভাব আছে কি না, তা সরাসরি খতিয়ে দেখা।
বাংলার মানুষ কি এবার নির্ভয়ে বুথমুখো হতে পারবেন? দিল্লি থেকে আসা এই বিশেষ টিমের তৎপরতা দেখে তেমনটাই আশা করছেন সাধারণ ভোটাররা। ৩ দিনের এই সফর শেষ হওয়ার পর কমিশন আর কী কী বড় নির্দেশিকা জারি করে, নজর এখন সেই দিকেই।