প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-উৎসবের কলকাতায় এবার রাজনৈতিক হিংসার ছায়া। ঢাকুরিয়ায় বামেদের একটি ঐতিহ্যবাহী বইয়ের বিপণিতে (বুকস্টল) অতর্কিত হামলা এবং কর্মীদের নৃশংসভাবে মারধরের অভিযোগ উঠল। বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কার্যত রণক্ষেত্রের রূপ নেয় ঢাকুরিয়া বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকা। এই হামলায় বাম কর্মী ও প্রবীণ নেতারা রক্তাক্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ। বামেদের স্পষ্ট অভিযোগের তির রাজ্যের শাসকদল বিজেপির আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দিকে।

দীর্ঘ প্রায় চার দশক ধরে ঢাকুরিয়া বাস স্ট্যান্ডের কাছে দুর্গাপুজোর সময় যৌথভাবে বুকস্টল দিয়ে আসছে সিপিআই, সিপিআইএম এবং সিপিআই(এম-এল) লিবারেশনসহ বিভিন্ন বামপন্থী দল। অভিযোগ, বুধবার সন্ধ্যায় সিপিআই-এর আঞ্চলিক পরিষদের উদ্যোগে তৈরি ওই স্টলে হঠাৎই চড়াও হয় একদল দুষ্কৃতী।
স্টল ভাঙচুর করার পাশাপাশি সিপিআই(এম-এল) লিবারেশনের যাদবপুর-ঢাকুরিয়ার লোকাল কমিটি সম্পাদক তথা রাজ্য কমিটির সদস্য বাবুন চট্টোপাধ্যায় এবং প্রবীণ বাম নেতা অমলেন্দু ভূষণ চৌধুরীকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও ব্যাপক মারধর করা হয়। হামলায় বাবুন চট্টোপাধ্যায়ের চোখ গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত বাঘাযতীন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে বর্তমানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে।

এই হামলার ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বাম কর্মী-সমর্থকেরা। ঘটনার প্রতিবাদে এবং দোষীদের গ্রেফতারির দাবিতে সিপিএম, সিপিআই এবং লিবারেশনের কর্মী-সমর্থকেরা গভীর রাতে লেক থানার সামনে জড়ো হয়ে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। ইতিমধেই বামেদের তরফ থেকে লেক থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বাম নেতৃত্বের অভিযোগ, “রাজ্যে সরকার বদল হলেও বিরোধীদের ওপর দমনপীড়ন কমেনি। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুজোয় ‘শারদোৎসব’ লিখলে স্টল করতে দেওয়া হবে না বলে ফরমান জারি করেছিলেন, আর তার জেরেই বিজেপির গুন্ডা বাহিনী প্রগতিশীল সাহিত্য ও মতাদর্শ প্রচার রুখতে এই ফ্যাসিস্ট হামলা চালাচ্ছে।”

বামেদের তোলা যাবতীয় মারধর ও ভাঙচুরের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। গেরুয়া শিবিরের দাবি, এই ঘটনার সাথে বিজেপির কোনও যোগ নেই। উৎসবের মরসুমে এলাকায় অশান্তি ছড়াতে এবং রাজনৈতিক ফায়দা লুটতেই বামেরা এই ধরনের ভিত্তিহীন মিথ্যা অভিযোগ তুলছে। উল্লেখ্য, এবার পুজোয় বনগাঁ বা নৈহাটির মতো বিভিন্ন জায়গায় বামেদের বুকস্টল করা নিয়ে বিজেপি ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির সাথে সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছিল, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্ট কড়া পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। তার মধ্যেই কলকাতার বুকে ঢাকুরিয়ার এই ঘটনা পুজো ও রাজনীতির উত্তাপকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।