প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে সবথেকে বড় ‘মাস্টারস্ট্রোক’ দিল ভারতীয় জনতা পার্টি। একদিকে যখন সারদা-কাণ্ড থেকে শুরু করে একাধিক বিতর্কে জড়ানো ‘প্রিয় পাত্র’ রাজীব কুমারকে রাজ্যসভার সাংসদ করে নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠাতে ব্যস্ত তৃণমূল, ঠিক তখনই বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের ‘অপশাসন’ রুখতে ময়দানে নামলেন কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার ডঃ রাজেশ কুমার। একসময়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহকর্মী রাজীব যখন দিল্লির এসি ঘরে সেফ জোনে, রাজেশ তখন জগদ্দলের ধুলোমাখা রাস্তায় তৃণমূলের ‘ভোট লুঠের’ কারিগরদের রুখতে বদ্ধপরিকর। ১৯৯০ ব্যাচের এই দুঁদে আইপিএস অফিসারের প্রোফাইল যে কোনো ঝানু রাজনীতিকের কাছে ঈর্ষণীয়। তিনি কেবল প্রাক্তন নগরপালই নন, তিনি একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এবং ফিন্যান্সে পিএইচডি ধারী উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিত্ব। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় খোদ নির্বাচন কমিশনের পছন্দের মানুষ হিসেবে তিনি কলকাতার পুলিশ কমিশনার হয়েছিলেন, যা তাঁর নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের প্রমাণ দেয়। বিজেপি তাঁকে জগদ্দল থেকে প্রার্থী করে স্পষ্ট বার্তা দিলো, তৃণমূলের পেশিবলের বিপরীতে তারা মস্তিষ্ক ও দক্ষতার লড়াই লড়বে।
বিজেপির এই আত্মবিশ্বাসের মূলে রয়েছে গত কয়েক বছরের ভোটের গ্রাফ। ২০২১-এ তৃণমূল এই আসনটি ধরে রাখলেও, বর্তমানে পায়ের তলার মাটি সরছে ঘাসফুল শিবিরের। ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের সোমনাথ শ্যাম জিতেছিলেন ১৮,৩৬৪ ভোটের ব্যবধানে। ২০২৪ এর লোকসভায় মাত্র তিন বছরে সেই ব্যবধান মারাত্মকভাবে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫ হাজার ৯৮৪ তে। শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ভোটারদের মধ্যে মোদীর প্রতি ঝোঁক এবং রাজেশ কুমারের মত একজন ক্লিন ইমেজের প্রশাসকের আগমনে এই সামান্য ৫ হাজারের ব্যবধান মুছে ফেলা বিজেপির কাছে কেবল সময়ের অপেক্ষা।
এখন প্রশ্ন উঠছে, রাজেশের এন্ট্রিতে কেন ব্যাকফুটে তৃণমূল? রাজেশ কুমার নিজে একসময়ে এই এলাকার প্রশাসনিক স্তরে কাজ করেছেন। তৃণমূল কীভাবে ভোট ‘ম্যানেজ’ করে বা পুলিশকে ব্যবহার করে, তা তাঁর নখদর্পণে। ফলে জগদ্দলে সোমনাথ শ্যামদের পুরনো কায়দা এবার বুমেরাং হতে পারে। বিজেপি প্রচার শুরু করেছে, “মমতা তাঁর ‘প্রিয়’ অফিসারকে বাঁচাতে রাজ্যসভায় পাঠায়, আর মোদীজি সাধারণ মানুষের সেবা করতে যোগ্য অফিসারকে আপনাদের দরজায় পাঠায়। রাজীব কুমারকে রাজ্যসভায় পাঠিয়ে তৃণমূল কার্যত মেনে নিয়েছে যে, তারা তাঁকে বাংলার ময়দানে নামাতে ভয় পাচ্ছে। আর ব্যারাকপুরের দাপুটে নেতা অর্জুন সিংয়ের দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং রাজেশ কুমারের প্রশাসনিক দক্ষতা, এই দুইয়ের রসায়ন তৃণমূলের ‘ক্যাডার রাজ’ ধ্বংস করতে সক্ষম বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। সেক্ষেত্রে রাজীব কুমার দিল্লির লাল গালিচায় পা রাখলেও, তাঁর ‘বিতর্কিত’ অতীত তাঁকে তাড়া করে বেড়াবে। অন্যদিকে, রাজেশ কুমার জগদ্দলের চটকলের ধোঁয়া আর শ্রমিকদের ঘামের সঙ্গে মিশে গিয়ে এক নতুন রাজনীতির জন্ম দিচ্ছেন। বিজেপির এই এক চালেই তৃণমূল এখন চিন্তায়। রাজীবকে সরিয়ে তৃণমূল যদি ভেবে থাকে বাংলার পথ পরিষ্কার, তবে রাজেশ কুমারের জগদ্দলে অভিষেক সেই স্বপ্নে কাঁটা বিছিয়ে দিলো বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।