প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
কথায় বলে, বাঙালির আতিথেয়তার কোনো তুলনা নেই। আর সেই টানেই কি না কে জানে, খোদ শাসকদলের পার্টি অফিসে গিয়ে ‘গুটি’ সাজাতে বসে পড়লেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা! রাজনীতির আঙিনায় যখন যুযুধান দুই পক্ষ একে অপরকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ, তখন বীরভূমের সিউড়িতে দেখা গেল এক অদ্ভুত ‘স্পোর্টিং’ দৃশ্য। তবে খেলাটা রাজনীতির নয়, স্রেফ ক্যারামের। আর সেই ক্যারাম-প্রীতিই শেষমেশ কাল হলো বাহিনীর তিন সদস্যের জন্য। ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় তৃণমূলের পার্টি অফিসে ক্যারাম খেলার ‘অপরাধে’ তাঁদের কপালে জুটল সাসপেনশন।

ঘটনার সূত্রপাত সিউড়ির একটি তৃণমূল কার্যালয়ে। ভাইরাল হওয়া একটি ছবিতে (যার সত্যতা আমাদের পোর্টাল যাচাই করেনি) দেখা গিয়েছে, বীরভূমের তপ্ত রোদে ডিউটি করতে করতে হাঁপিয়ে ওঠা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা ঢুকে পড়েছেন স্থানীয় ঘাসফুল শিবিরের কার্যালয়ে। সেখানে তখন ফ্যান চলছে সাঁ সাঁ করে, আর সামনে সাজানো ক্যারাম বোর্ড। লোভ সামলাতে না পেরে স্ট্রাইকারে আঙুল ছোঁয়ালেন জওয়ানরা। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বেশ খোশমেজাজেই তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে গুটি পকেটে পোরার লড়াই চলছে তাঁদের।

আর এসব ভাইরাল হতেই শোরগোল পড়ে যায় রাজনৈতিক মহলে। বিরোধীরা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন, যে বাহিনীর ওপর নিরপেক্ষ নির্বাচনের ভার, তারা শাসকদলের ডেরায় বসে আতিথেয়তা গ্রহণ করছে কী করে? কমিশনের কানে খবর পৌঁছাতেও দেরি হয়নি। এর আগেই নির্বাচন কমিশন কড়া নির্দেশ দিয়েছিল যে, কোনো বাহিনীর জওয়ান স্থানীয় রাজনৈতিক দলের কোনো রকম সাহায্য বা আপ্যায়ন গ্রহণ করতে পারবেন না। সিউড়ির এই ঘটনায় সেই নির্দেশের সরাসরি অবমাননা হয়েছে দেখে রে রে করে নামে কমিশন।

তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ৩ জওয়ানকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত বা ‘ডিপার্টমেন্টাল এনকোয়ারি’ শুরু করারও কড়া বার্তা দিয়েছে কমিশন। কমিশনের এই কড়া মেজাজ দেখে স্পষ্ট, ভোট-ময়দানে ‘ক্যারাম খেলা’ মোটেই বরদাস্ত করা হবে না।

তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, “রোদে জওয়ানরা কষ্ট পাচ্ছিলেন, তাই সৌজন্যের খাতিরে একটু বসতে দেওয়া হয়েছিল। ক্যারাম খেলাটা তো বিনোদন, এতে রাজনীতি কোথায়?” তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌজন্য আর কর্তব্যের মধ্যে যে একটা সূক্ষ্ম লক্ষণরেখা থাকে, জওয়ানরা উত্তেজনার বশে সেটাই টপকে গিয়েছেন। বিশেষ করে বীরভূমের মত ‘স্পর্শকাতর’ জেলায় যেখানে ঘাসফুল বনাম পদ্মফুলের লড়াই তুঙ্গে, সেখানে জওয়ানদের এই ‘স্পোর্টিং স্পিরিট’ কমিশনের চোখে একেবারেই ‘আনস্পোর্টিং’ মনে হয়েছে।

আপাতত সিউড়ির সেই ক্যারাম বোর্ড এখন খাঁ খাঁ করছে। জওয়ানদের ওই আড্ডা এখন তাঁদের কেরিয়ারে বড়সড় প্রশ্নের চিহ্ন বসিয়ে দিয়েছে। কমিশনের এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ বাকি জওয়ানদের জন্যও এক বড় সতর্কবার্তা—পার্টি অফিসে ঢুকে ‘গুটি’ সাজালে, কমিশন কিন্তু ‘স্ট্রাইকার’ চালাতে দু’বার ভাববে না!