প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা যখনই কোনো তল্লাশি চালায় বা কোনো তদন্তের জন্য অগ্রসর হয়, তখনই তৃণমূলের পক্ষ থেকে বলা হয় যে, রাজনৈতিক কারণে তারা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে কাজ করছে। তবে সব ক্ষেত্রেই কি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের এই অভিযোগ খাটে? তৃণমূলের জন্য যদি কোনো কিছু অস্বস্তিকর হয়, তাহলেই তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বলে বারবার করে ঘোলা জলে মাছ ধরার চেষ্টা করলেও, এবার সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূলের সেই বক্তব্য নিয়েই উঠে গেল বড়সড় প্রশ্ন। অন্তত তেমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা। যেখানে আদালতের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তুলে দেওয়া হলো যে, কোনো কেন্দ্রীয় সংস্থা যদি সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে কোনো তদন্ত করে, তাহলে সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র দলের কাজ বলে কি তাদের তদন্ত করা থেকে বঞ্চিত করা যেতে পারে?
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে আইপ্যাকের অফিস এবং প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে যখন তল্লাশি চলছে, তখন সেখানে পৌঁছে যান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার দলের নথি ছিনতাই করা হচ্ছে, এই অভিযোগ তুলে পরবর্তীতে একাধিক নথিপত্র নিয়ে বেরিয়ে আসেন তিনি। যে বিষয় নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে আজ সেই বিষয়ে ইডির মামলার পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি হয়েছে। যেখানে একাধিক বিষয় উঠে এসেছে। আর সেখানেই শীর্ষ আদালতের দুই বিচারপতির বেঞ্চের পক্ষ থেকে যে পর্যবেক্ষণ করা হলো, তাতে একটা প্রশ্ন উঠে গেল যে, সত্যিই কি শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তদন্তকে আটকানোর জন্য কেউ দলের কাজ বলে কোনো বিষয়ে তদন্তে অজুহাত খাড়া করে তাদের বাধা দিতে পারে?
বর্তমানে তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে, ভোটের আগে শুধুমাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশি চালিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তবে সেই প্রশ্ন যখন রাজ্যে শাসক দলের নেতারা করছেন, ঠিক তখনই আজ সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানিতে নিজেদের পর্যবেক্ষণ জানায় দুই বিচারপতির বেঞ্চ। শীর্ষ আদালতের পক্ষ থেকে বলা হয়, “এটা ঠিক যে কোনো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থারই কোনো রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী কাজে হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই। তবে যদি কোনো কেন্দ্রীয় সংস্থা সৎ উদ্দেশ্যে কোনো গুরুতর অপরাধের তদন্ত করে, তাহলে কি শুধুমাত্র এটা দলের কাজ, এই অজুহাতে তাদের তদন্ত চালানোর ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করা যেতে পারে?” স্বাভাবিকভাবেই যে শাসক দলের পক্ষ থেকে তাদের নেতারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কেন্দ্রীয় এজেন্সি কাজ করছে বলে বাধাদান করার চেষ্টা করেছিলেন, তাদের সেই বক্তব্য নিয়েই এবার সুপ্রিম কোর্টে উঠে গেল বড়সড় প্রশ্ন। যেখানে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা গুরুতর অপরাধের তদন্ত করছে, সেক্ষেত্রেও কি নিজেদের দলের কাজ বলে অজুহাত খাড়া করে তাদের বাধাদান করা সত্যিই যুক্তি সঙ্গত? দুই বিচারপতির বেঞ্চের পক্ষ থেকে যে পর্যবেক্ষণ সামনে এসেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে তেমনটাই বলছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।